হামলা বন্ধ না হলে আলোচনা অসম্ভব, ইরানকে কাতারের বার্তা

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের উত্তাপে কাতার এখন এক কঠিন কূটনৈতিক অবস্থানে। দোহার পক্ষ থেকে সোজা ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট এমন বার্তাই দিয়েছে ।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের হামলা বন্ধ না করছে, ততক্ষণ কোনো ধরণের কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত সপ্তাহে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা তদন্তে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হোক।

ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, তারা কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়নি। তবে মাজেদ আল-আনসারি ইরানের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তিনি বলেন, তারা (ইরান) যদি হামলা থামায়, তবেই আমরা কূটনীতির মাধ্যমে পথ খুঁজতে পারি। কিন্তু যতক্ষণ আমাদের দেশগুলো আক্রান্ত হচ্ছে, ততক্ষণ কমিটি গঠন করার কোনো মানে হয় না।

মুখপাত্র আল-আনসারি অভিযোগ করেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হুমকি ও হামলা এক মুহূর্তের জন্যও থামেনি। তিনি গত শনিবারের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে জানান, দোহার একটি আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ-আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইরানি সংবাদমাধ্যমে আগে থেকেই নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ও বহুজাতিক কোম্পানিতে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কাতার কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

যেসব এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেখানে গুগল, আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং মাইক্রোসফটের মতো শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কোম্পানিগুলোর দপ্তর অবস্থিত। মূলত বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতেই কাতার এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ঐতিহাসিকভাবে কাতার আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও, আল-আনসারি জানিয়েছেন যে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতা চলছে বলে তাঁর জানা নেই।

কাতার উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করলেও এই মুহূর্তে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো নিজের দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ৱকাতার বর্তমানে একটি ‘নীতিগত অবস্থানে’ অনড়। দোহার বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনা শুরু করার বল এখন ইরানের কোর্টে। হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট নিরসনে কোনো কূটনৈতিক টেবিলে বসার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

তথ্যসূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স