সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তম বন্দর ও তেল মজুত কেন্দ্র ফুজাইরাহ এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবহন ও তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। খবর বিবিসি।
সোমবার দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর অগ্নিকাণ্ড ঘটলে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়। এছাড়া, ফুজাইরাহ বন্দর ও শিল্পাঞ্চলেও ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরটি ওই অঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম তেল মজুত কেন্দ্র।
আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি গাড়িতে রকেট হামলায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে শহরের মিডিয়া অফিস। এই হামলাটি আল বাহিয়া এলাকায় সংঘটিত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আমিরাতের ওপর ১৯০০-এর বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে তেহরান।
সোমবারের ড্রোন হামলাটি ছিল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত দুবাই বিমানবন্দরের কাছে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তৃতীয় ঘটনা। এর ফলে বেশ কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত এবং কিছু বাতিল করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও স্থিতিশীল দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাবমূর্তিকে নতুন করে সংকটে ফেলেছে।
দেশটির জ্বালানি খাতও সরাসরি আক্রমণের মুখে পড়েছে। গত শনিবার একটি তেলের ট্যাংকারে ড্রোন আঘাত করার পর সোমবারও তেলের স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়, যার ফলে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখার জন্য বন্দরে তেল খালাসের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফুজাইরাহ বন্দরটি পারস্য উপসাগরের বদলে ওমান উপসাগর সংলগ্ন আমিরাতের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। এর ফলে জাহাজগুলোকে এই বন্দরে পৌঁছাতে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হয় না। দুবাই ভিত্তিক ‘সিইও মিডল ইস্ট’-এর সম্পাদক জাস্টিন হার্পার বিবিসিকে বলেন, হরমুজ প্রণালী যখন ইরানের অবরোধে আটকা পড়ে, তখন বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ সচল রাখতে ফুজাইরাহ ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সাথে উত্তেজনার কারণে যদি হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে যায়, তবে আমিরাত আবুধাবির তেলক্ষেত্রগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ফুজাইরাহ হয়ে তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারবে।
পণ্য তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘কপলার’-এর তেল বিশ্লেষক ম্যাট স্ট্যানলি বিবিসিকে জানান, ফুজাইরাহ বন্দর ও পাইপলাইনে ইরানের আঘাত হানা এটাই প্রমাণ করে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামো কতটা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, ইরান মূলত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিতে চায়।
স্ট্যানলি আরও জানান, ফুজাইরাহ মূলত জাহাজগুলোর জন্য একটি বিশাল ভেন্ডিং মেশিনের মতো। এটি কন্টেইনার জাহাজগুলোকে জ্বালানি, খাবার ও পানি সরবরাহ করে। ভারত, সিঙ্গাপুর ও চীনের পথে এটিই মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম স্টপেজ।
দুবাইয়ে হামলা চললেও জাস্টিন হার্পার মনে করেন এখানকার ব্যবসায়ী সমাজ অত্যন্ত ‘সহনশীল’। মানুষ যাতে রেস্তোরাঁয় ফেরে সেজন্য বিশেষ ছাড় দেয়া হচ্ছে এবং শপিং মলগুলোতেও ভিড় দেখা যাচ্ছে। মানুষ দুবাইয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাকে মূল্যায়ন করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত সপ্তাহে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিমন্ত্রী লানা নুসেইবেহ দৃঢ়তার সাথে বলেছিলেন, তার দেশ এই সংকট কাটিয়ে আবারও স্বমহিমায় ফিরবে এবং তাদের অর্থনীতি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম।