চলমান যুদ্ধ বন্ধে আমেরিকার দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। বুধবার তেহরানের এক উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক-নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রেস টিভিকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরান এই যুদ্ধ শুধুমাত্র নিজের শর্ত এবং নিজস্ব সময়সূচি অনুযায়ী শেষ করবে।
ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কখন যুদ্ধ শেষ করবে, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারণ করে দিতে পারেন না। যখন তেহরানের শর্তগুলো পূরণ হবে এবং ইরান নিজে সিদ্ধান্ত নেবে, তখনই শুধু যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে। তিনি আরও যোগ করেন, শত্রুপক্ষকে চরম আঘাত হেনে নিজেদের দাবি আদায় না করা পর্যন্ত ইরান তার প্রতিরক্ষা অভিযান চালিয়ে যাবে।
ইরানের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য ৫টি সুনির্দিষ্ট শর্ত দেয়া হয়েছে:
১. শত্রুপক্ষের যাবতীয় ‘আগ্রাসন ও হত্যাকাণ্ড’ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
২. ভবিষ্যতে যেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর পুনরায় যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া না হয়, তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মেকানিজম বা রক্ষাকবচ তৈরি করতে হবে।
৩. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রদানের সুনিশ্চিত ও সুসংজ্ঞায়িত নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৪. এই অঞ্চলের সব ফ্রন্টে এবং সব প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
৫. হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আইনি অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা কি না অপর পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করবে।
তেহরানের মতে, ওয়াশিংটন বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও সেগুলো মূলত অবাস্তব এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা ঢাকার অপচেষ্টা মাত্র। ওই কর্মকর্তা গত বছরের বসন্ত ও শীতকালীন আলোচনার উদাহরণ টেনে সেগুলোকে ‘প্রতারণামূলক’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি দাবি করেন, আমেরিকা আলোচনার আড়ালে আসলে নতুন করে সামরিক হামলার ছক কষে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরমাণু আলোচনার মাঝপথেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে আমেরিকা যে অবৈধ যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার পাল্টা জবাবে ইরান এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ দফা সফল আক্রমণ চালিয়েছে।
বর্তমানে আমেরিকান ও ইসরাইলি সামরিক অবকাঠামো ইরানি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওয়াশিংটন এখন আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানকে শান্ত করার চেষ্টা করছে।
তবে ইরান সোজা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, শর্তগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না এবং তাদের প্রতিশোধমূলক প্রতিরক্ষা অভিযান অব্যাহত থাকবে।