ইরানের জ্বালানি খাতে ইসরাইলের ভয়াবহ আঘাত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এক নতুন ও বিধ্বংসী মোড় নিয়েছে। সোমবার ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জ্বালানি হাব আসালুয়েহতে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এই হামলার ফলে ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ নিশ্চিত করেছেন, আইডিএফ’কে ইরানের অবকাঠামোর ওপর সর্ব শক্তি দিয়ে হামলা চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবারের এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী হামলায় আসালুয়েহর ‘জাম’ এবং ‘দামাউন্দ’ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলো বিধ্বস্ত হয়। এর পাশাপাশি ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মারভদাশতের আরেকটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে সেখানে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।


প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কাটজ দাবি করেছেন, গত সপ্তাহের খুজেস্তান প্রদেশ এবং সোমবারের আসালুয়েহ হামলার ফলে ইরানের মোট পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই এখন অচল হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, আসালুয়েহর এই স্থাপনাটি একাই ইরানের মোট উৎপাদনের অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করত। কাটজ বলেন, এটি ইরানি শাসনের ওপর কয়েক দশ বিলিয়ন ডলারের একটি মারাত্মক অর্থনৈতিক আঘাত। এই পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পই মূলত রেভোল্যুশনারি গার্ডসের কার্যক্রম এবং ইরানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রধান উৎস ছিল।

পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবরের মাঝেই ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক শোকাবহ সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় আইআরজিসির গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। শীর্ষ এই কর্মকর্তার মৃত্যুর পরপরই ইরানের বৃহত্তম গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ে।


ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আসালুয়েহর দুটি বড় কোম্পানি হামলার শিকার হয়েছে। এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে চালানো হলো যখন দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও আর্থিক উৎস ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, এই বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতির পর তেহরান কী ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

তথসূত্র: সিএএন-বিবিসি-রয়টার্স-ফ্রেঞ্চ টুয়েন্টিফোর