ট্রাম্পের এক পোস্টেই স্তম্ভিত ও ব্যথিত নেতানিয়াহু!

কূটনৈতিক শিষ্টাচার নাকি শুধু হুকুমদারি? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মাত্র সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এখন দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে ইসরাইল এখন লেবাননে বোমা হামলা চালাতে ‘নিষিদ্ধ’। এই এক কথাতেই রীতিমতো ‘ভড়কে’ গেছে তেল আবিব। নেতানিয়াহু নাকি ট্রাম্পের কথা রীতিমতো ‘শকড’ বা ব্যথিত।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। ট্রাম্প তাঁর এক পোস্টে কড়া ভাষায় লেখেন, ইসরাইল আর লেবাননে বোমা মারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের এটা করতে নিষেধ করা হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে!


ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক ভাষা শুনে ব্যক্তিগতভাবে স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন নেতানিয়াহু। কারণ, গত বৃহস্পতিবার স্টেট ডিপার্টমেন্ট যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া প্রকাশ করেছিল, তাতে স্পষ্ট বলা ছিল আত্মরক্ষার্থে ইসরাইল যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারবে। কিন্তু ট্রাম্পের পোস্ট বলছে ঠিক উল্টো কথা। নেতানিয়াহুর মনে তাই প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াশিংটন কি ইসরাইল নীতিতে পরিবর্তন আনলো?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, ইসরাইলকে থামতেই হবে। তারা এভাবে একের পর এক ভবন উড়িয়ে দিতে পারে না। আমি এটা হতে দেব না। ট্রাম্পের এই সরাসরি আদেশ দেয়ার ভঙ্গি অন্য যে কোনো মার্কিন প্রশাসনের আমলে ছিল অকল্পনীয়।

নেতানিয়াহুর দল যখন জনগণকে বোঝাচ্ছে, তারা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালানোর পূর্ণ ক্ষমতা রাখে, তখন ট্রাম্পের এই ‘নিষেধাজ্ঞা’র বাণী নেতানিয়াহুকে চরম রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছে।


ট্রাম্পের পোস্টটি গণমাধ্যমে দেখার পর ইসরাইলি কর্মকর্তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটারসহ প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ উপদেষ্টারা তড়িঘড়ি করে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। তারা জানতে চান, আমেরিকা কি চুক্তির শর্ত বদলে ফেলেছে? ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, ট্রাম্পের মন্তব্য সরাসরি মূল চুক্তির পরিপন্থী।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুখ খুলতে বাধ্য হয় হোয়াইট হাউস। এক মার্কিন কর্মকর্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে বলেন, প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পরিষ্কার বলা আছে, ইসরাইল কোনো ‘আক্রমণাত্মক’ অভিযান চালাবে না, তবে আসন্ন যে কোনো হামলা রুখতে তাদের ‘আত্মরক্ষার’ অধিকার সংরক্ষিত থাকবে। অর্থাৎ, ট্রাম্পের মুখের কথাকে একটু ঘুরিয়ে চুক্তির আইনি ভাষায় ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছে প্রশাসন।

এই কূটনৈতিক ঝামেলার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ লেবাননে ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইল। ইসরাইলি সূত্রের দাবি, হিজবুল্লাহ আগে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাই তারা শুধুমাত্র ‘আত্মরক্ষা’ করেছে।

ট্রাম্পের অনড় মেজাজ আর নেতানিয়াহুর সামরিক প্রয়োজনীয়তা, এই দুইয়ের লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই দেখার বিষয়। তবে এটা স্পষ্ট, ট্রাম্পের জমানায় ইসরাইলকে এখন শুধু শত্রুর নয়, হোয়াইট হাউসের ‘হুকুমের’ দিকেও কড়া নজর রাখতে হচ্ছে।