ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোজা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রশ্নই আসে না। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ভূখণ্ড যেমন তাদের কাছে পবিত্র, দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও ঠিক ততটাই গুরুত্ব বহন করে। ওয়াশিংটন বা অন্য কোথাও এই সম্পদ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা কখনোই আলোচনার টেবিলে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও হবে না বলে স্পষ্ট করেছের ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এই মুখপাত্র।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে চলমান বিতর্কের জেরে বাঘাই আরও বলেন, এই কৌশলগত জলপথ খোলা রাখা বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ‘ভার্চুয়াল স্পেস’ বা সামাজিক মাধ্যমে নেওয়া হয় না। তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার একমাত্র সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ হলো ইরান। যুদ্ধবিরতির পর তেহরান ঘোষণা করেছিল, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন সাপেক্ষে অসামরিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে, তবে এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতেই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ-অবরোধের কড়া সমালোচনা করে মুখপাত্র বলেন, ইরানের ওপর যে কোনো ধরনের নৌ-অবরোধ আরোপ করা হলে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই ধরনের অবরোধ সরাসরি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল এবং এর বিপরীতে ইরান প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দ্বিধা করবে না।
আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাঘাই জানান, ইরান তখনই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হবে যখন তাদের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এক্ষেত্রে ইরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং গত কয়েক বছরে ইরানের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
ইসমাইল বাঘাইয়ের এই বক্তব্য পরিষ্কার করে দিয়েছে, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক আধিপত্যের প্রশ্নে কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। একদিকে ইউরেনিয়াম রক্ষার অনড় অবস্থান এবং অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক নিয়ন্ত্রণের হুঁশিয়ারি, সব মিলিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার কূটনৈতিক লড়াই এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।