ভারতের পাঁচ রাজ্যে চলছে বিধানসভা নির্বাচন

ভারতের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচটি রাজ্যে চলমান বিধানসভা নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন নাগরিককে প্রতি পাঁচ বছরে অন্তত তিনবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হয়, জাতীয় পর্যায়ে লোকসভা, রাজ্য পর্যায়ে বিধানসভা এবং স্থানীয় পর্যায়ে পৌরসভা বা পঞ্চায়েত নির্বাচন।


বর্তমানে ভারতের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরালা, পুদুচেরি এবং তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন চলছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রে সরকার গঠনের লড়াইয়ে বিজেপি এবং বিরোধী জোটের কাছে এই পাঁচ রাজ্যের ফলাফল অত্যন্ত নির্ণায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চলতি মরসুমের এই নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে এপ্রিলের শুরুতে এবং ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ৯ এপ্রিল কেরালা, পুদুচেরি ও আসামে এক দফায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য তামিলনাড়ুতে ২৩ এপ্রিল এক দফায় ভোট নেয়া হবে।


অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বাকি অংশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল- এই দুই দফায়। ৫ রাজ্যের এই বিশাল ম্যান্ডেটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ মে।

এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে মোট ১৭ কোটি ৪০ লক্ষেরও বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। বিশাল এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ২৫ লক্ষেরও বেশি সরকারি কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত হয়েছেন। গড়ে প্রতি ৭০ জন ভোটারের জন্য একজন করে ভোটকর্মী কাজ করছেন।

নিযুক্ত কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ লক্ষ ভোটকর্মী এবং প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী। এছাড়া স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ১,১১১ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ পর্যবেক্ষক ছাড়াও পুলিশ এবং আয়-ব্যয় তদারকির জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক রয়েছেন। গণনার কাজের জন্য থাকছেন প্রায় ৪০ হাজার গণনাকর্মী ও ১৫ হাজার মাইক্রো অবজার্ভার।


বিধানসভা নির্বাচনের পাশাপাশি গোয়া, কর্ণাটক, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরায় বেশ কিছু আসনে গত ৯ই এপ্রিল উপ-নির্বাচন হয়েছে। ২৩ এপ্রিল গুজরাট ও মহারাষ্ট্রেও উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইলে বিরোধীদের জন্য এই পাঁচ রাজ্যে বিজেপির উত্থান রুখে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে, বিজেপি তাদের ক্ষমতা সুসংহত করতে এবং কেন্দ্রে ফেরার পথ প্রশস্ত করতে এই রাজ্যগুলোতে আরও বেশি আসন জিতে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করতে মরিয়া। ফলে এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনী লড়াই এখন ভারতের জাতীয় রাজনীতির ভাগ্য নির্ধারণী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।