সাময়িক বিরতি কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বারুদ আবার দাউদাউ করে জ্বলে উঠল! মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরানের ওপর এক ঘণ্টার এক বিধ্বংসী ‘ভারী বিমান হামলা’ শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ডজন ডজন লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, পারস্য উপসাগরের কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় দুই বছরের এক শিশু এবং তার বাবা-মাসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় রকেট ও বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। দ্বীপটির এক অধিবাসী বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভোররাত থেকেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এপ্রিল মাসের যুদ্ধবিরতি জুন মাসে ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলা চলছিল। তবে গত সপ্তাহে ১৩ রাতের টানা বোমাবর্ষণের পর কিছুটা স্থবিরতা এসেছিল। পর্দার আড়ালে কূটনীতির গুঞ্জন ভেসে আসছিল, যাকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা’ বলে দাবি করলেও তেহরান তা পুরোপুরি অস্বীকার করে।
কিন্তু মঙ্গলবার জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে তিনটি তেল ট্যাংকার লক্ষ্য করে আক্রমণের পর পাশার দান পাল্টে যায়। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ক্ষুব্ধ ট্রাম্প সোজা জানিয়ে দেন, এবার আমাদের আঘাত হানার পালা, এবং আমরা তাদের খুব শক্তভাবেই পিষব। তারা জানে এটা আসছে।
বুধবার রাত ৮টায় শুরু হওয়া এই হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানা এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সেন্টকমের। অন্যদিকে ইরানের ছোঁড়া সবকটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন ও জর্ডানীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এদিকে সংঘাত যখন ছড়িয়ে পড়ছে, তখন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করে উত্তেজনা কমানোর আকুতি জানিয়েছেন। তবে পরিস্থিতির পারদ কমছে না।
একদিকে ইরাকে ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের ওপর প্রথমবার মার্কিন-সৌদি যৌথ বিমান হামলায় ২০ জন নিহত হওয়ায় বাগদাদ ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। অন্যদিকে মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি এলএনজি ট্যাংকারে আগুন লাগার পেছনেও এই ছায়াযুদ্ধেরই যোগসূত্র দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শিয়া ও সুন্নি শক্তির এই পুরনো দড়ি টানাটানির মাঝে মার্কিন রণতরী ও ড্রোন আবার গর্জে ওঠায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনির্দিষ্ট ও বিধ্বংসী আগুনের মুখে দাঁড়িয়ে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স