দুইশ’র বেশি মার্কিন ড্রোন-যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন ও যুদ্ধ চলাকালে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ২০০টিরও বেশি ড্রোন ও মানবচালিত যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির উপ-প্রধান মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনীর স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় জেনারেল ইজাদি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি বলেন, বিপুলসংখ্যক বিমান ও ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র জনবিক্ষোভ ও কঠোর জবাবদিহিতার জন্ম দিয়েছে এবং এটি ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার ভেতরে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে।

Iran War 04
তিনি আরও জানান, মার্কিন-ইসরাইলি জোট ইরানের ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ এবং দেশকে খণ্ড-বিখণ্ড করার সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত নীল নকশা নিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করেছিল। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিটি ফ্রন্টে তারা চরম পরাজয় বরণ করেছে এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা বা শিল্পে প্রবেশাধিকার পেতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানি জনগণের ভূমিকা স্মরণ করে ইজাদি বলেন, সাধারণ মানুষের সচেতন ও সক্রিয় উপস্থিতি শত্রুর সমস্ত ষড়যন্ত্র ও চাল নস্যাৎ করে দিয়েছে। ফলে বর্তমানে ইরানের জাতীয় সংহতি ও সার্বভৌমত্ব আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি নিজস্ব তথ্যের বরাত দিয়ে আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০ শতাংশ তরুণ ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাঁর মতে, ‘ভেলায়েত-ই-ফকিহ’ ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাই আজ ইরানের মূল শক্তি ও মর্যাদার ভিত্তি।

Iran War 02
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ বাহিনী আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার মাধ্যমে ইরানের ওপর দ্বিতীয় দফার আক্রমণ শুরু করে। এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী টানা ৪০ দিনে প্রায় ১০০টি পাল্টাধাওয়া ও পাল্টা হামলা চালিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।

পরবর্তীতে গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল।

তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওয়াশিংটন এই সমঝোতার প্রতিটি ধারা লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে ইরান আবারও কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।

তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি