চুক্তি করার মতো পরিস্থিতিতে নেই ইরান: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ থামাতে প্রয়োজনীয় চুক্তিতে আসার মতো পরিস্থিতিতে ইরান নেই। তেহরানকে অবিলম্বে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি মার্কিন কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি বাড়ানোর সম্ভাবনাও সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।

সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওরা এমন কোনো চুক্তি করতে যাচ্ছে না, যা আমি প্রয়োজন বলে মনে করি। দেখুন, আমরা কেবল একটি কারণেই এখানে রয়েছি, ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।

Iran War 01
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি বাড়ানো হচ্ছে কি না, সংবাদকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সোজাসাপ্টা ‘না’ বলে দেন।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল সমস্ত ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় ট্রাম্প এটিকে ‘বাতিল’ ঘোষণা করেন এবং তার পরপরই ইরান চুক্তিটি ‘স্থগিত’ করার ঘোষণা দেয়। সোমবার ছিল সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সেই নির্ধারিত ৬০তম দিন।

ওভাল অফিসে বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের উচিত হবে অবিলম্বে ‘সাদা পতাকা তুলে আত্মসমর্পণ করা’।

iran 1
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমান ও ইরান যখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন ওমানের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশই এই চ্যানেল দিয়ে পরিবাহিত হতো।

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ওমান এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমরা তাদের ওপর এমন বোমাবর্ষণ করব যা তারা ভাবতেও পারবে না।

পরবর্তীতে ওভাল অফিসে ওমানের প্রতি তাঁর ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে কি না জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখে বলেন, না, আমি মনে করি না তারা খুব ভালো আচরণ করেছে। তবে অন্য সব বিষয়ের মতো আমরা তাদেরও খুব সহজেই সামলে নেব।

Iran War 03
হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণভাবে এই যুদ্ধকে চরম অপ্রিয় করে তুলেছে। সামনেই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন, যা মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে। এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চাপের মুখে থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প দাবি করেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচন তাঁর নীতিকে প্রভাবিত করছে না।

তিনি জানান, মধ্যবর্তী নির্বাচন আমার চিন্তাভাবনাকে বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করে না। এর আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প তাঁর যুদ্ধের মূল লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে লেখেন, আমাদের এক নম্বর লক্ষ্য একটাই এবং সব সময় তাই থাকবে, ইরান কোনোভাবেই, কোনো উপায়ে বা কোনো রূপেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স-সিএনএন-আল জাজিরা