পারস্য উপসাগরের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। প্রেস টিভিকে দেওয়া এক আঞ্চলিক গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পেন্টাগন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ কিংবা এ অঞ্চলের জ্বালানি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মতো কোনো কার্যকর সামরিক পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। মার্কিন সামরিক পেন্টাগনের এই মূল্যায়ন মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অচলাবস্থা স্পষ্ট করে তুলেছে।
বিশ্বের মোট ব্যবহৃত খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পারস্য উপসাগরের এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে এই প্রণালীটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় দুর্বলতার জায়গায় পরিণত হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে, পেন্টাগন স্বীকার করেছে, বর্তমানে এমন কোনো সামরিক বিকল্প নেই যা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত দিক থেকে হরমুজ প্রণালীকে উন্মুক্ত রাখা এবং তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তির যে দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
এই সামরিক ব্যর্থতা ও অচলাবস্থার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র হতাশায় ভুগছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে তিনি তার নিজস্ব প্রশাসন ও সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং ব্যর্থতার জন্য একে অপরকে দোষারোপের চেষ্টা করছেন। একই সাথে, সামরিক উপায়ে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনীতির ওপর তাদের মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির প্রচারণাকে আরও জোরদার করেছে।
অন্যদিকে, ভৌগোলিক অবস্থান এবং সুবিধাজনক সামরিক কৌশলের কারণে হোরমুজ প্রণালীতে ইরান নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ হলে এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে ইরানের যেসব ন্যায্য দাবি রয়েছে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্র পূরণ করলেই শুধু এই প্রণালী দিয়ে চলাচল নিরাপদ হবে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যে কোনো ধরনের হুমকি বা আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। ওয়াশিংটনের সাথে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় আইআরজিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি