নতুন নিরাপত্তা সমীকরণে বাগদাদে ইরানি স্পিকার

আঞ্চলিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এক উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পৌঁছেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। বুধবার বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইরাকি পার্লামেন্টের প্রথম ডেপুটি স্পিকার আদনান ফায়হান তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

ইরাকি স্পিকারের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরে গালিবাফ দেশটির প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের সাথে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন।

Mohammad Baqer Qalibaf 01
মেহরাবাদ বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয়ার পূর্বে এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে জেনারেল কাশেম সোলাইমানির শাহাদাতস্থলে দাঁড়িয়ে গালিবাফ বলেন, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো বহিরাগত শক্তির কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের এই প্রতিবেশিত্ব গড়ে উঠেছে সবচেয়ে কঠিন সময়ে পারস্পরিক ভাইদের মতো পাশে থাকা, বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রতিরোধ এবং দুই দেশের অভিন্ন ভাগ্যের ওপর বিশ্বাসের ভিত্তিতে। মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক দেশগুলোর উচিত শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে একটি সুদৃঢ় ও গভীর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা। ইরান এ ধরনের আঞ্চলিক মডেল বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

Mohammad Baqer Qalibaf 02
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আরবি বার্তায় গালিবাফ ইরান ও ইরাকের জনগণের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ৪০ দিনের আরোপিত রমজান যুদ্ধে জয়ের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাগদাদ ও তেহরানের কৌশলগত জোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহে তেহরান ও বাগদাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্পিকারের এই সফরের কিছুদিন আগেই ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ওবায়দুল নাসের হেমমাতি বাগদাদ সফর করে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের জটিলতা নিরসনে কাজ করেন।

Mohammad Baqer Qalibaf 03
এরও আগে গত ২৩শে জুলাই ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি তেহরান সফর করে যৌথ আর্থিক ও জ্বালানি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। গালিবাফের এই সফর উভয় দেশের বহু পাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক সফরের পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ ধর্মীয় মাত্রা। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র আরবাঈন এবং একই সাথে ইরানের বিদায়ী রেভল্যুশনারি লিডার আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনির শাহাদাতের ৪০তম দিন।

গালিবাফ জানান, তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কারবালায় শোকানুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতার বিশেষ বার্তা, শুভেচ্ছা এবং মরহুম সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় অংশগ্রহণ করায় ইরাকের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা পৌঁছে দেবেন।

তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি