ইরানের সঙ্গে আমিরাতের অর্থনৈতিক লেনদেন স্থগতি!

ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি ও সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির জেরে তাদের সাথে যাবতীয় আর্থিক ও অর্থনৈতিক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত । একই সাথে তেহরানের সাথে সব ধরণের বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক বিনিময় বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রধান তেল উৎপাদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র আমিরাতের এই কঠোর পদক্ষেপ আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Iran-UAE Cutoff 1
আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, তাদের ভূখণ্ডে সম্প্রতি ইরান থেকে উৎক্ষেপিত দুটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। মূল্যায়নে দেখা যায়, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল, যদিও সেগুলো সাগরে গিয়ে পতিত হয়।

ঘটনার পরপরই দেশটির নাগরিকদের সতর্ক করে টেলিফোন বার্তা পাঠানো হয়, যদিও পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিরাপদ ঘোষণা করে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে প্রত্যাখান করেছে।

Strait of Hormuz 1
আমিরাতের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জন্য একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করে আসছিল। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আফরা আল হামেলি স্পষ্ট করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণকারী আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতেই এই বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্ক স্থগিত করা হলো।

আমিরাতের রাষ্ট্রপতির কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গরগাশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার খবরগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার অংশ।

চলতি বছরের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বড় জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান 'আবু ধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি' (এডনক) বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

UAE Under Attack 1
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় তাদের একাধিক ভেসেল এবং বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যদিও ইরান সরাসরি এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পূর্বে সতর্ক করেছিল যে প্রতিপক্ষ সংশ্লিষ্ট অথবা তাদের নির্দেশ অমান্যকারী যেকোনো জলযানের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নেবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারী আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়া শেষ হওয়ার পরপরই এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনাটি ঘটে, যা গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ব্যাহত করার পাশাপাশি বিশ্ববাজারেও অস্থিরতা তৈরি করেছে। তা সত্ত্বেও আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে তারা এখনো আলোচনা ও কূটনৈতিক সহযোগিতার পথে উন্মুক্ত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স