যুদ্ধের সময় ইরানের অস্ত্র উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাময়িক আগ্রাসন এবং ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালীন নিজেদের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্রের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বাড়িয়েছে ইরান। শুক্রবার দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ সংবাদ অনুষ্ঠানে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক।

তালাই-নিক বলেন, ১৯৮০-র দশকে ইরাকের বাথিস্ট শাসনের সঙ্গে আট বছরের যুদ্ধের তুলনায় ইরানের বর্তমান প্রতিরক্ষা শিল্প অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। অতীতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা যেমন ছিল, তার সঙ্গে বর্তমানের কোনো তুলনা চলে না।

Iran General Reza Talaei-Nik
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের তৈরি বিশ্বমানের অস্ত্র ও সরঞ্জাম যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের পাশাপাশি দ্বিগুণ গতিতে রিফিল বা প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। অর্থাৎ, একদিকে প্রযুক্তিনির্ভর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শত্রুকে জবাব দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে কারখানায় সমান তালে উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে তালাই-নিক জানান, গত বছরের জুলাই থেকে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত, বিশেষ করে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের মাঝে অস্ত্র, সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ উৎপাদন সামগ্রিকভাবে দুই গুণ বেড়েছে। এমনকি রণক্ষেত্রের জরুরি ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কৌশলগত আইটেমগুলোর উৎপাদন তিন গুণ ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সাশ্রয়ী খরচে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরিই ইরানের মূল সাফল্য। দেশীয় জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং নিজস্ব উৎপাদন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ফলে বিদেশি অস্ত্রের তুলনায় ইরানের তৈরি অস্ত্রের খরচ অনেক কম। শত্রুর একের পর এক কৌশলগত ব্যর্থতার পেছনে এটিই প্রধান কারণ বলে তিনি দাবি করেন।

Iran War 2
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েল-অধ্যুষিত এলাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে।

পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল এক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১৮ জুন স্থায়ী শান্তি বজায় রাখা ও দ্বিপাক্ষিক সংকট নিরসনে ৬০ দিনের একটি কূটনৈতিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্ট। তবে সমঝোতা স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহের মাথায় মার্কিন বাহিনী নতুন করে হামলা চালালে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি