আমেরিকার শর্তে যুদ্ধ শেষ করবে না ইরান: বাঘাই

আমেরিকা বা কোনো বহিরাগত শত্রুর দেয়া শর্তে যুদ্ধ শেষ করতে ইরান কখনোই রাজি হবে না বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান নিজের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় সর্বোচ্চ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আক্রমণকারীরা যে শর্ত চাপিয়ে দিতে চাইবে, তেহরান কখনোই তা মেনে নেবে না এবং আগ্রাসনকারীদের জবাবদিহি করতে হবে।

সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি বক্তব্যে উল্লেখ করেছিলেন, ইরান শক্তির শক্ত অবস্থানে থাকতেই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো উত্তম। তবে, ইসমাইল বাঘাই ব্যাখ্যা দেন, এই বক্তব্যকে কোনো ভাবেই শত্রুদের কাছে নতিস্বীকার বা ছাড় দেওয়ার মানসিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

Iran War 03
বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধ এবং এর আগের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় গোটা দেশ ও সরকার এক হয়ে একক কণ্ঠে শত্রুর মোকাবিলা করেছে। ইরানের জনগণ ও শাসনব্যবস্থা কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ বা আগ্রাসন মেনে নেবে না।

ইউরোপের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান বুলগেরিয়া ছাড়ার বিষয়ে মন্তব্য করে বাঘাই আন্তর্জাতিক আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যেসব দেশ তাদের সামরিক ঘাঁটি, অবকাঠামো বা সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে আমেরিকা ও ইসরাইলকে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তারাও এই আগ্রাসনের অংশীদার হিসেবে গণ্য হবে।

তিনি সরাসরি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, আমাদের ওপর চালানো যেকোনো আগ্রাসনের উৎস ও মূল ঘাঁটিকে নিশানা করা ইরানের আইনি অধিকার। যে বা যারাই আগ্রাসনকারীদের অবৈধ কাজে সহায়তা করবে, ইরান নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।

Iran War 01
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোটে ইরানের অন্তর্ভুক্তির খবর নাকচ করে দিয়ে বাঘাই জানান, তেহরান এ বিষয়ে কোনো অফিশিয়াল আমন্ত্রণ পায়নি। তবে আঞ্চলিক যৌথ নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে ইরান সব সময় আগ্রহী।

দীর্ঘ দেড় বছরের সংঘাত ও যুদ্ধের মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের প্রশাসনিক সংস্কার এবং কনস্যুলার সেবা আরও উন্নত করেছে বলে মুখপাত্র উল্লেখ করেন। বিশেষ করে চারপাশজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেও ইরানের কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের চাকা সচল রেখে দেশ রক্ষা করাই ছিল বর্তমান প্রশাসনের মূল সাফল্য।

তথ্যসূত্র: ইরনা