হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৫টি ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সাথে, এসব জাহাজের সাথে পণ্য আদান-প্রদান বা স্থানান্তর করা অন্যান্য জাহাজের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মাথায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ নিয়ে ইরান তাদের হুমকি আরও বাড়িয়ে দিল।
ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনার জন্য সম্প্রতি গঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ রোববার রাতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টের মাধ্যমে এই সতর্কবার্তা জারি করে।
এতে উল্লেখ করা হয়, তালিকাভুক্ত এই জাহাজগুলোকে জরিমানা, আটক অথবা এদের বহন করা পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি দেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই পাল্টা পদক্ষেপ এল, যার জবাবে ইরান আগেই বলেছিল, যে কোনো নতুন মার্কিন হুমকির পরিণতি হবে ‘বিধ্বংসী’।
কালো তালিকাভুক্ত এসব ট্যাংকারের মধ্যে রয়েছে বিশাল আকৃতির অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম গ্যাস বাহক এবং অন্যান্য জ্বালানিবাহী জলযান। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘অ্যাডনক লজিস্টিকস অ্যান্ড শিপিং’ এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘ন্যাভিগ৮ ট্যাংকার্স’ এবং সৌদি আরবের জাতীয় নৌপরিবহন সংস্থা ‘বাহরি’-র মালিকানাধীন কয়েকটি জাহাজ রয়েছে।
এছাড়া ক্লাভেনেস শিপ ম্যানেজমেন্ট, স্টোল্ট ট্যাংকার্স এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিনোকোরের জাহাজও এই তালিকায় রয়েছে। কোনো জাহাজ যদি কালো তালিকাভুক্ত এই জাহাজগুলোর সাথে সাগরে পণ্য স্থানান্তর করে, তবে সেটিকেও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইরান ঠিক কোন নিয়ম লঙ্ঘনের কথা বলেছে তা পোস্টে স্পষ্ট না করলেও, এর আগেও তেহরান জানিয়েছিল, প্রণালী অতিক্রম করার আগে জাহাজ মালিকদের অনুমতি নিতে হবে এবং নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবার জন্য ফি দিতে হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করে রেখেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই এই পারস্য উপসাগরীয় পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে ছোট ছোট জাহাজে করে তেল এনে প্রণালীর বাইরে থাকা সুপারট্যাংকারে পূর্ণ করার মাধ্যমে রপ্তানি ফের চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এক্স-এ জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক গড়ে ৮০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল প্রবাহিত হচ্ছে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর কারণেই এই চলাচল সম্ভব হচ্ছে।
পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি জানিয়েছে, পণ্য মালিকদের উচিত প্রণালীতে চলাচলের জন্য অযোগ্য বিবেচিত জাহাজগুলোর হালনাগাদ তালিকা অনুসরণ করা। কোনো জাহাজ যদি এই তালিকা থেকে নিজেদের নাম সরাতে চায়, তবে তাদের উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে ইরানি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স