ইরানের ওপর এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন ডলারভিত্তিক বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি সংবলিত একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এক সাক্ষাৎকারভিত্তিক মতামত নিবন্ধে বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে এক বিশাল ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ (Economic D-Day) বলে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল বাণিজ্য এবং তাদের আর্থিক লেনদেনের সব পথ বন্ধ করা। নতুন ব্যবস্থার আওতায় যেসব দেশ বা সংস্থা ইরানের তেল কেনা, পণ্য রফতানি বা মুদ্রার বিনিময়ে সাহায্য করবে, তাদের ওপরও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে।
বিশেষ করে চীন হলো ইরানের তেলের সর্ববৃহৎ ক্রেতা। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী অবরোধের কারণে চীনের তেল আমদানি ইতোমধ্যেই কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবু মার্কিন অর্থমন্ত্রনালয় চায় চীন সম্পূর্ণভাবে এই বাণিজ্য বন্ধ করুক। তবে আগামী মাসে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক নির্ধারিত থাকায় অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার জবাবে চীনের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটন কিছু সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সমস্যা মেটানো যাবে না এবং চীন তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষপ নেবে।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও চরম প্রতিশোধের হুমকি এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই সতর্ক করে বলেছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে গেলে তারা পারস্য উপসাগর দিয়ে সব তেল রফতানি স্তব্ধ করে দেবে। এমনকি প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ৪৫টি জাহাজকে নিজস্ব নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
চলমান এই সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সোমবার ইরান সফরে পৌঁছেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে টেলিফোনিক আলোচনার পর আঞ্চলিক শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখতে এবং ইরানকে পুনরায় আলোচনা টেবিলে ফিরিয়ে আনার মার্কিন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যৌথ বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়া সহ ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। তবুও ইরান তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পেরেছে, যা দিয়ে তারা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল থামিয়ে দিয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইরানের নিজস্ব অর্থনীতি ও মুদ্রা ‘রিয়াল’ চরম মন্দার সম্মুখীন হয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রণালীতে চলমান আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতকে আরও ভয়াবহ এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স