ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির প্রকাশ্যে না আসার রহস্য অব্যাহত থাকার মধ্যেই তাঁর পুরোনো একটি 'আর্কাইভ ফুটেজ' প্রকাশ করেছে দেশটির ফার্স নিউজ এজেন্সি। দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার বরাতে জানা যায়, খামেনি সুপ্রিম লিডার হওয়ার বহু আগের এই ভিডিওটিতে তাঁকে কিছু মানুষের পরিবেষ্টিত অবস্থায় দেখা যায়, যেখানে মূল আলোচনার পূর্বে তাঁরা মোনাজাতে অংশ নিচ্ছিলেন।
চলতি আগস্ট মাসেই এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বা আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে মোজতবা খামেনির ভিডিও চিত্র প্রকাশ করা হলো।
আগস্টের শুরুর দিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হয়, ইরানের সুপ্রিম লিডারের শারীরিক অবস্থা চরম আশঙ্কাজনক এবং তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেরুজালেম পোস্ট এবং চ্যানেল ১৪-এর মতো মাধ্যমগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠ মহলকে উদ্ধৃত করে জানায়, খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশটির উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই জল্পনা-কল্পনা ও খামেনির অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্য নিরসন করতেই মেহর নিউজ এজেন্সি (যা ইরান সরকারের ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন দ্বারা পরিচালিত) একটি তারিখবিহীন ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে মোজতবা খামেনিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়।
ইসরাইলি দাবির পর পরই ইরানের অর্ধ-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ইসনা’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জল্পনা উড়িয়ে দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, যিনি টানা সাত থেকে আট ঘণ্টা বসে আলোচনা করতে পারেন, তাঁর কোনো শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে না।
প্রেসিডেন্ট আরও নিশ্চিত করেন, আগস্টের শুরুতেই সুপ্রিম লিডারের সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত গঠনমূলক ও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং তিনি শতভাগ সুস্থ রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ সামরিক হামলায় তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে স্থলাভিষিক্ত হন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বা জনগণের সামনে আসেননি। তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সরকারের সমস্ত নির্দেশনা ও বক্তব্য পৌঁছে দিচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে ক্রমাগত কৌতূহল সৃষ্টি করে চলেছে।