আমেরিকাকে আগুনে ঘি ঢালতে বারণ করলো ইরান!

দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলি আল-তাহের পাহাড়ি রিজ এলাকায় বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালালে যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালো পাল্টাহামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তিন জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনকে পাঠানো গোপন বার্তায় তেহরান স্পষ্ট করেছে, ওই পাহাড়ি এলাকায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের পাশাপাশি সরাসরি ইরানে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে বহুমাত্রিক সংঘাত সপ্তম মাসে পদার্পণ করার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কবার্তা সরাসরি ইরানি উপস্থিতির বড় প্রমাণ।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্যমতে, দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের ওপর নজর রাখার জন্য আলি আল-তাহের পাহাড়টি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিজবুল্লাহ এই পাহাড়ের ভূগর্ভে একটি সুসংগঠিত কমান্ড সেন্টার ও বিশাল অস্ত্র গুদাম তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হিজবুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানিয়ে বলেছে, যেকোনো ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসন সেখানে রুখে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী পাহাড়টির দক্ষিণাঞ্চলীয় বড় অংশ দখল করে নিয়েছে এবং একে তাদের অন্যতম প্রধান সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে।

Lebanon Attack1
ওমানের মাধ্যমে প্রেরিত বার্তায় তেহরান স্পষ্ট করে যে, পাহাড়টি দখলের উদ্দেশ্যে পূর্ণমাত্রার অভিযান চালানো হলে ইরানও বৃহৎ পরিসরে পাল্টা আক্রমণ চালাবে। বার্তাটি গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে এক কূটনৈতিক সূত্র। যার পর মার্কিন চাপে ইসরাইল আপাতত পাহাড়টিতে সরাসরি হামলা স্থগিত রেখেছে।

হিজবুল্লাহর মিডিয়া অফিস বার্তাটির সত্যতা নিশ্চিত না করলেও বলেছে, এমন সতর্কবার্তা পাঠানো একটি ‘স্বাভাবিক পরিণতি’। তারা আরও জানায়, দক্ষিণ লেবাননে যেকোনো ইসরায়েলি ভূখণ্ড সম্প্রসারণ গত জুনে স্বাক্ষরিত 'ইসলামাবাদ চুক্তি' বা যুদ্ধবিরতি স্মারকের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

Lebanon Attack 2
বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনী স্থানটি ঘিরে রেখে অবরুদ্ধ করার নীতি গ্রহণ করেছে। হিজবুল্লাহ ও আইআরজিসি সদস্যদের বাইরে বের করে আনতে খাদ্য, পানি ও প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহের ড্রোনগুলো গুলি করে ভূপাতিত করছে ইসরাইলি সেনারা। যদিও ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছে ভেতরে আইআরজিসি সদস্যরা নেই এবং খাদ্যাভাবে কিছু হিজবুল্লাহ যোদ্ধা মারা গেছে, তবে হিজবুল্লাহর নিজস্ব সূত্রে দাবি করা হয়েছে তাদের যোদ্ধারা এখনও উত্তর দিক দিয়ে পাহাড়ের ভেতরে যাতায়াত করতে পারছে।

লেবাননের নিরাপত্তা বিশ্লেষণ সংস্থাগুলোর মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আলি আল-তাহের পাহাড়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বড় ধরণের আক্রমণ চালাতে পারে। এমনটা হলে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু করবে বলে কড়া সতর্কবার্তা জারি রেখেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স