কাতারে বোমা ফেলার প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি নেতানিয়াহুর!

কাতারে বোমা ফেলার প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি নেতানিয়াহুর!

কাতারের মাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুধু তা-ই নয়, কোনো ধরনের রাখঢাক না রেখে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কাতার ইসরাইলের জন্য একটি 'শত্রুভাবাপন্ন' দেশ এবং যুদ্ধের সময় কাতারিরা তার নীতির ওপর বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি।

শনিবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম 'আই২৪নিউজ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে অত্যন্ত চড়াসুরে নেতানিয়াহু বলেন, আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি, যুদ্ধের সময় তাদের ওপর বোমাও ফেলেছি, তারাও আমাকে আক্রমণ করেছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলার এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে।

২০২৫ সালের ওই বিতর্কিত হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। কাতার সরকার সেসময় সরাসরি একে আন্তর্জাতিক আইনের 'স্পষ্ট লঙ্ঘন' বলে আখ্যা দেয় এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরাইলকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিলেন।

২০২৫ সালের ইসরাইলের বিতর্কিত হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন ছবি: সংগৃহীত
গাজায় কাতারের পাঠানো শত শত কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা নিয়েও নিজের মতো করে সাফাই গেয়েছেন নেতানিয়াহু। সমালোচকদের তোপের মুখে পড়ে তিনি দাবি করেন, গাজায় পাঠানো এই অর্থ মোসাদ ও শিন বেতের মতো ইসরাইলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর গোপন সুপারিশেই অনুমোদিত হয়েছিল এবং তা শুধু মানবিক কাজেই ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, গাজায় প্রবেশ করা মোট তহবিলের মাত্র ২ শতাংশ ছিল কাতারের এই অর্থ।

তবে নেতানিয়াহুর এই ব্যাখ্যার সাথে একেবারেই একমত নন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, কাতারের পাঠানো এই অর্থ আদতে হামাসের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আক্রমণের প্রস্তুতির পেছনে রসদ হিসেবে কাজ করেছিল।

অন্যদিকে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ শুরু থেকেই উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি জোর দিয়ে বলেছেন, সব অর্থ কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারির মধ্য দিয়ে শুধু সাধারণ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় পৌঁছেছে এবং ওয়াশিংটন পুরো বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিফহাল ছিল।


আসন্ন ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এমন আগ্রাসী ও ঝাঁঝালো মন্তব্যকে বড় রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে গাজা যুদ্ধ, ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি ও ইরানের সাথে সংঘাতের জটিল বিষয়গুলো ভোটের মাঠে মূল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয়তাবাদী ও কট্টরপন্থী ভোটারদের নিজের বাক্সে টানতেই নেতানিয়াহু পরিকল্পিতভাবে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে চলছেন বলে মনে করছেন তাঁর তীব্র সমালোচকরা। সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি প্রকাশ করাটা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিকেই আরও বিষাক্ত করে তুলছে না, বরং আসন্ন নির্বাচনের লড়াইকে ঠেলে দিচ্ছে এক চরম অনিশ্চিত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে।