খার্গ দ্বীপে ৫৫০ বার মার্কিন হামলার পরও রমরমা ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য!

আমেরিকা ও ইসরাইলের দফায় দফায় হামলা এবং নৌ-অবরোধের মধ্যেও ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি এক ঘণ্টার জন্যও বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেছেন দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী মহসিন পাকনেজাদ। একই সঙ্গে ধ্বংসপ্রাপ্ত জ্বালানি অবকাঠামোগুলো মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্রুত মেরামত করে উৎপাদনে ফেরার চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি।

গত দুই বছরে তেল মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনামূলক এক সাক্ষাৎকারে পাকনেজাদ জানান, দক্ষিণ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রের নানা সংকট ও কৌশলগত রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।

সংকটকালীন জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও তেল খাতের সাফল্য নিয়ে কথা বলছেন ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী মহসিন পাকনেজাদ ছবি: সংগৃহীত
ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র খারেগ দ্বীপের ওপর চালানো নজিরবিহীন আক্রমণের বিশদ বর্ণনা দেন মন্ত্রী। মাত্র ২৩ থেকে ২৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ক্ষুদ্র দ্বীপে যুদ্ধের সময় ৫৫০ বারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে।

পাকনেজাদ উল্লেখ করেন, অব্যাহত বোমাবর্ষণের মধ্যেও তেল খাতের কর্মীরা জীবন বাজি রেখে তেল ট্যাঙ্কারে লোডিং কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। ফলে এই সংকটকালেও দেশটির তেল রপ্তানি কোনো গুরুতর বাধার মুখে পড়েনি, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির সুবিধা পেয়েছে তেহরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের তেল সংরক্ষণাগার ও প্রসেসিং প্ল্যান্টগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ৮ মার্চ তেহরানের তেল ডেপো ছাড়াও লোডিং ফ্যাসিলিটিতে হামলা চলে। একই সময়ে আলবোর্জ প্রদেশের তেল সঞ্চয়াগার এবং আসানুলিয়া এলাকার চারটি গ্যাস শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাহশাহর ও আসানুলিয়া এলাকার পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় বিদ্যুৎ, বাষ্প ও নাইট্রোজেন সরবরাহকারী ইউনিটগুলো ধ্বংস করা হয়। তবে, ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি ও ইরানিয়ান গ্যাস কোম্পানির কারিগরি দক্ষতায় ধ্বংস হওয়া ক্ষমতার বড় অংশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুনরুদ্ধার করে পুনরায় সচল করা হয়।

Iran kharg island 1
যুদ্ধের সময় ইরানের ওপর আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ ও পরিবহনের ওপর কড়াকড়ি এড়াতে বিকল্প রুট তৈরি করে তেহরান। রাস আল-হাদ্দ থেকে পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর পর্যন্ত নতুন অর্থনৈতিক সীমান্ত রেখা চিহ্নিত করা হয়। এই বিশেষ ব্যবস্থার ফলে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সফলভাবে তেল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

জ্বালানি খাতের অন্যান্য বড় অগ্রগতির কথা তুলে ধরে পাকনেজাদ জানান, দক্ষিণ ফার্স প্রদেশের পাজান ও তাখত ক্ষেত্রে নতুন করে প্রায় ১৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। পাশাপাশি যৌথ গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ৩ লাখ ব্যারেল অতিক্রম করেছে।

জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের পর নেওয়া বিশেষ প্রকল্পের আওতায় দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা আড়াই লাখ ব্যারেলের মধ্যে ইতোমধ্যে ৭০ থেকে ৮০ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত উৎপাদন শুরু হয়েছে। আগে পেট্রোলের মতো ডিজেলও আমদানি করতে হতো ইরানকে। তবে শোধনাগারগুলোর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং ফিডস্টক বাড়ানোর মাধ্যমে ইরান এখন সম্পূর্ণ ডিজেল আমদানিমুক্ত দেশে পরিণত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ফারস এজেন্সি