দুর্ধর্ষ ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদি তেলের পাইপলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের রেশ ধরে সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে এক দুর্ধর্ষ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার পরপরই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে শীর্ষস্থানে থাকা দেশটি।

ইরাক ও রিয়াদ উভয়েই নিশ্চিত করেছে, ড্রোন হামলাটি মূলত ইরাকের ভূখণ্ড থেকেই চালানো হয়েছে, যেখানে ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের শক্ত প্রভাব রয়েছে।

এই পাইপলাইনটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়, যা পুরো বিশ্বের দৈনিক মোট সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ। পারস্য উপসাগরের সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালীর স্থলাভিষিক্ত বিকল্প পথ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

Saudi Pipeline 02
ড্রোন হামলায় মদিনার দক্ষিণাংশে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি কয়েকজন আহত হয়েছেন। কিন্তু এই পথটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

সৌদি পাইপলাইনে আঘাত হানার পাশাপাশি লোহিত সাগরেও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আগ্রাসন নতুন সংকট তৈরি করেছে। ইয়েমেন সরকারের চার কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মানদেব প্রণালীর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখলে নিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। ফলে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী. উভয় পথেই জ্বালানি পরিবহন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে।

হামলাটি ইরানের সীমান্তবর্তী ইরাকের মায়সান প্রদেশ থেকে চালিত হওয়ায় ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সেখানকার দায়িত্বরত সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছেন। পাশাপাশি ইরান থেকে খাদ্য ও শাকসবজি আমদানির প্রধান রুট শালামচেহ সীমান্ত পারাপার নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে সৌদি আরব আপাতত পাল্টা সামরিক হামলায় না গেলেও তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার সংরক্ষিত রেখেছে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে।

Saudi Pipeline 03
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অন্তত দুবার ফোন করে সরাসরি সামরিক সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমেরিকা এই মুহূর্তে সরাসরি সামরিক অভিযানে না জড়িয়ে কেবল গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা পাঠাবে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা ইরানের সব শর্ত না মানা পর্যন্ত কোনো সমঝোতা বা আলোচনা সম্ভব নয়। লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ওমানে জরুরি বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স