হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলের পাইপলাইন হামলার শিকার হয়ে বন্ধ হওয়ার পর এবার হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থা ‘ইউকেএমটিও’ রোববার জানিয়েছে, প্রণালী পাড়ি দেয়ার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা উড়ন্ত বস্তুর আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাহায্যে নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। মিডল ইস্ট জুড়ে যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ার সাথে সাথে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম পুনরায় ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

এর আগের দিনই সৌদি আরব তাদের ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ড্রোন হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ইরাকভিত্তিক ইরানি সমর্থিত মিলিশিয়াদের কাজ বলে রিয়াদ ও বাগদাদ ইঙ্গিত দিয়েছে।

গত ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালী যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের এই পাইপলাইনটি বিশ্ব বাজারে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের প্রধান বিকল্প মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। হামলার ঘটনার পরপরই মদিনার দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার পেছনে ইরান জড়িত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।

Saudi Pipeline 01
মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথগুলোতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক সংকট তৈরি করেছে।

আকাশচুম্বী তেলের দাম: হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে সংঘাত বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ রিটেল ডিজেলের দাম রেকর্ড প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা প্রার্থনা: সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন আপাতত সরাসরি জড়িয়ে না পড়ে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করার কথা জানিয়েছে।

কৌশলগত পেরিম দ্বীপ দখল: ইয়েমেন সরকারের সূত্রমতে, হুথিরা লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মানদেবের স্ট্র্যাটেজিক ‘পেরিম দ্বীপ’ দখল করে নিয়েছে, যা সৌদি জাহাজ ও তেলের অবকাঠামোতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করবে।

Houthi Attack
যুদ্ধের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে গত জুন মাসের পর থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। ইরানের পার্লমেন্টীয় কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের সব শর্ত না মানা পর্যন্ত সংলাপের কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে, সোমবার ওমানে পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর উপস্থিতিতেৱ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে এই আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হলেও, ইরান তার তার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালী খুলে না দেয়ার নীতিতে অটল রয়েছে।

বেইজিং ও ওয়াশিংটনের নজর থাকা এই বৈঠকে ইরান হরমুজের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব এবং যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের অধিকার দাবি করছে, যা ওয়াশিংটন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স