আমেরিকা ও ইসরাইলকে বিশ্বের মূল সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করে কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিযোগ করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করে উল্টো অন্যদের ওপর সন্ত্রাসবাদের দায় চাপায়। সিরিয়া, লেবানন, গাজা, ইরাক, কাতার ও ইরানে তারা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আবার অন্যদের সন্ত্রাসী বলে আখ্যা দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষ হত্যার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলই প্রকৃতপক্ষে বিশ্বমঞ্চে আসল সন্ত্রাসী বলে পেজেশকিয়ান সোজা ভাষায় জানিয়ে দেন।
চলমান যুদ্ধের জন্য ইরানকে দায়ী করার দাবিও তিনি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরানি প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধের সূত্রপাত করেছে আমেরিকা ও ইসরাইল, আর তেহরান শুধু নিজেদের আত্মরক্ষায় প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ডার ও হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে হত্যার মাধ্যমে আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়।
এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে টানা ১০০ ধাপে পাল্টা হামলা চালায়, যা মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক স্থাপনাগুলোর মারাত্মক ক্ষতিসাধন করেছে।
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিপ্রায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, তেহরান সর্বদা আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলেছে। ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাইতো, তবে তারা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) অংশ নিত না বলে তিনি নিজের অবস্থানের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।