ইরানের তৈরি সাধারণ ও মান্ধাতাধাঁচের তাপ-সন্ধানী ড্রোনগুলো হঠাৎ করেই কীভাবে এতটা নিখুঁত ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠল,তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা রহস্যের মোড়ক অবশেষে খুলল মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে!
সিএনএন’র এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক জাহাজগুলোতে ইরানের চালানো হামলায় নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে চীনের উপগ্রহ ও ভূ-উপগ্রহ সংক্রান্ত (জিওস্পেশিয়াল) গোপন ডেটা। চীনা কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া নিখুঁত মানচিত্র ও তথ্যের ওপর ভর করেই জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে তিন মার্কিন সেনাকে হত্যা করেছে তেহরান, যা ইরানের একক প্রযুক্তিতে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না বলে মনে করছেন মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকরা।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইরান মূলত অত্যন্ত সাধারণ মানের ড্রোন ব্যবহার করে, যেগুলোর গতিপথ মাঝপথে পরিবর্তন করার বা ম্যানুভার করার বিশেষ ক্ষমতা নেই। কিন্তু চীনা উপগ্রহের সঠিক হিসাব ও রিয়েল-টাইম ডেটা ব্যবহার করে ড্রোন উৎক্ষেপণের নিখুঁত সময় ঠিক করছে তেহরান।
এতে মার্কিন সামরিক প্রহারকারী জাহাজ ও বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজের ওপর সবচেয়ে উপযুক্ত সময়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন দিয়ে নির্ভুল হামলা চালাতে পারছে তারা। এর ওপর রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এবং চীনের সরবরাহ করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ায় ইরানের শক্তি এখন আকাশচুম্বী। ওয়াশিংটন যেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে উঁচুপথের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, সেখানে নিচ দিয়ে উড়ে আসা এই চীনা-সহায়তাপুষ্ট ড্রোনের অন্ধ বিন্দু ঢাকতে চরম হিমশিম খাচ্ছে পেন্টাগন।
এদিকে ওয়াশিংটনে চলমান ট্রাম্প-জিনপিং শীর্ষ সম্মেলনের আবহেই এই সামরিক ও কূটনৈতিক বোমাটি ফাটল! হোয়াইট হাউসে খোলামেলা আলোচনার সময় ট্রাম্প প্রশাসন চীনকে সোজা জানিয়ে দিয়েছে, ইরানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যেকোনো সামরিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দেয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
যদিও ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস এবং বেজিংয়ের তরফ থেকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, অন্য দেশকে কালিমালিপ্ত করতেই এসব ভিত্তিহীন কথা ছড়ানো হচ্ছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, চীনা যন্ত্রাংশ ও স্যাটেলাইট ডেটার সহায়তা না পেলে এত দীর্ঘ দিন আমেরিকার চোখে চোখ রেখে ইরান লড়াই চালিয়ে যেতেই পারত না!
তথ্যসূত্র: সিএনএন-এনডিটিভি