যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক আগ্রাসনের মুখে নিজেদের সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক সুরক্ষাকে নিশ্চিত করতে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। দেশের কৌশলগত সব সামরিক ক্ষমতা, মিসাইল প্রযুক্তি ও অস্ত্রাগারের বড় একটি অংশকে ভূগর্ভস্থ গোপন সুরক্ষিত অবকাঠামো ও মাটির নিচের সুবিশাল সুড়ঙ্গে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে শনিবার নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক।
এই দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলেই ইরানি অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়ার জন্য তেল আবিব-ওয়াশিংটনের নেয়া সুনির্দিষ্ট হিসাব-নিকাশ সম্পূর্ণ নস্যাৎ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
চলমান এই উত্তপ্ত সামরিক সংঘাতের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্রিফিংয়ে তালাই-নিক জানান, ইরানকে দুর্বল করার দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত বিশ্ব বাণিজ্য পথ হরমুজের জোগান নিয়ন্ত্রণ এবং খনিজ শক্তির ওপর অধিপত্য বিস্তার করাই হলো পশ্চিমাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক যৌথ আগ্রাসনে আমেরিকার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং নৌবাহিনীর মূল স্তম্ভগুলোকে একবারে গুড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু আগ্রাসনকারীরা তাদের মূল সামরিক লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে; উল্টো ইরানি প্রতিরক্ষার অদম্য বাধার সামনে পড়ে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।
ইরানি প্রতিরক্ষা মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে জানান, শত্রুপক্ষের সমস্ত চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে তেহরান কেবল সামরিক শক্তিই বাড়ায়নি, বরং নিজেদের মাটির ভেতরের গোপন ঘাঁটিতে সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়ে সার্বিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
মাটির ওপরের দৃশ্যমান ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে তেহরানকে পঙ্গু করে দেয়ার যে নীলকশ তৈরি করা হয়েছিল, ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোর কারণে তা এখন ব্যর্থতায় পর্যবসিত। দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় সহনশীলতা বজায় রাখা অব্যাহত থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি