সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার পরদিনই নতুন করে চরম হুঁশিয়ারি জারি করলো ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বার্তায় তারা সব ধরণের বিমান সংস্থা, কর্মী এবং আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে। ধর্মীয়ভাবে পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনা বাদে সৌদির সব বিমানবন্দর এখন তাদের সামরিক অভিযানের আওতাভুক্ত বলে দাবি করেছে তারা।
শনিবারের এই রকেট ও ড্রোন হামলাটি গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদির মাটিতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। এতে চারজন সৌদি নাগরিক ও দুইজন বাংলাদেশী ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক নিহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে এটি ছিল রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের তৃতীয় হামলা। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরটির সার্বিক ক্ষতি ও নিরাপত্তা পর্যালোচনার জন্য সাময়িকভাবে সব ধরণের ফ্লাইট ওঠানামা স্থগিত ঘোষণা করেছে। এই ঘটনার পর দেশটির স্কুল-কলেজে সশরীরে ক্লাস বন্ধ রেখে দূরশিক্ষণ বা অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হুথি পরিচালিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের সামরিক হস্তক্ষেপ না থামলে সামনে আরও কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে। যেকোনো হামলার জবাব সমপরিমাণে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। সাম্প্রতিক সপ্তাহে লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের দখলে থাকা এলাকাগুলোতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা জোরদার করার পরই সংঘাত এই ভয়াবহ রূপ নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের এই রেশ ধরে তারা সৌদির সঙ্গে যৌথভাবে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
তবে বিমানবন্দর বন্ধ রাখা এবং ক্রমাগত উত্তেজনার মধ্যেও সৌদিতে নির্ধারিত বিশ্ব জ্বালানি সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এক কনভেনশন সেন্টারে রোববারে শুরু হওয়া এই পাঁচ দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন ৭০ জনেরও বেশি মন্ত্রী, বহু আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বাণিজ্যিক নির্বাহীরা। তা সত্ত্বেও, রিয়াদ ছাড়াও পূর্ব প্রদেশের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র পতন এবং ড্রোন ইন্টারসেপ্টের খবর মেলায় গোটা সৌদি আরব জুড়ে এখন চরম যুদ্ধকালীন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স