রিয়াদ-দাম্মামের পর এবার আসিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা!

সৌদি আরবের আকাশে হুথি বিদ্রোহীদের তাণ্ডব ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ থামার কোনো লক্ষণই নেই। রিয়াদ ও দাম্মামের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী আক্রমণের পর এবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসির প্রদেশকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ারা। সোমবার ভোরে খামিস মুশাইতের দিকে ধেয়ে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে ইন্টারসেপ্ট করে ধ্বংস করেছে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।

এই হামলার পরপরই নিকটবর্তী আবহা শহরে সম্ভাব্য হামলার তীব্র ঝুঁকিতে সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে সোশাল মিডিয়ায় জরুরি 'রেড অ্যালার্ট' জারি করা হয়। যদিও পরবর্তীতে বিপদ কেটে গেছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। ইয়েমেনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি নিশ্চিত করেন, খামিস মুশাইতের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।

রিয়াদ ও দাম্মামের মেগা বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য বানানোর পর হুথিরা ফের তাদের নজর ঘুরিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে। আসির অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা খামিস মুশাইত ও আবহা ছাড়াও সম্প্রতি জাজান ও নাজরানেও একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি বাহিনী, যা সৌদির বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এর আগে রোববারেও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল- চারে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। সেখানে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায় এবং এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও ১১ জন মারাত্মক আহত হন। বিগত ৫ দিনের মধ্যে এটি ছিল রিয়াদ বিমানবন্দরে চতুর্থবারের মতো হামলা! তারও আগে শনিবারে রিয়াদ বিমানবন্দরে চালুর অপেক্ষায় থাকা ওমরাহ যাত্রীদের ওপর চালানো হামলায় ১৩ জন প্রাণ হারান এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হন, যা গত এক দশকের মধ্যে সৌদির মাটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী আঘাত। একই দিনে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং জ্বালানি জায়ান্ট আরামকোর দুটি স্থাপনাতেও হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথিরা।

এমন অগ্নিগর্ভ ও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সংঘাত কমানোর জন্য পর্দার আড়ালে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রোববার সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে এক জরুরি ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। আরাগচি জানান, সৌদি ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ ও মধ্যস্থতায় তেহরান পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বাহরাইন, যুক্তরাজ্য, জর্ডান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই সৌদির সাথে পূর্ণ একাত্মতা ঘোষণা করেছে, তবে রাজতন্ত্রটির আকাশসীমায় হুথির মিসাইল বৃষ্টি থামানোই এখন রিয়াদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: আরব নিউজ