ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের বুক কাঁপছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চার দিনের মধ্যে একাধিকবার আঘাত হেনে ১৩ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ও তিন শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় এবার চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক কূটনীতি। রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কার মাঝেই তেহরানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে রিয়াদ।
সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, চরম উত্তেজনা প্রশমন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান তার ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাঘচির সাথে এক জরুরি ফোনালাপে অংশ নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদিতে হুথির ব্যাপক রক্তক্ষয়ী হামলার পর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা কোনো উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ।
ফোনালাপের পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি টেলিগ্রামে জানান, ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসন ও শান্তি সংলাপে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত তেহরান।
এরই মধ্যে সৌদি আরবের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব পরাশক্তি ও আঞ্চলিক মিত্ররা। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব এড মিলিব্যান্ড এবং বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রশিদ আল-জায়ানি আলাদা ফোনালাপে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার তীব্র নিন্দা জানান। বাহরাইন এই হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে সৌদির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের ওপর ও বিমানবন্দেরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হুথির হামলা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাজ্য সৌদির পাশাপাশি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পাশেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলেন। কাজা কালাস হুথিদের এই পৈশাচিক হামলাকে সরাসরি 'সন্ত্রাসবাদী কাজ' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, বেসামরিক মানুষের ওপর এই ধরনের অন্ধ আক্রমণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। একই সাথে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক পানিপথের সুরক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত শনিবারে রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের চালানো প্রথম হামলায় ভারতের এক নাগরিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে, যার সাথে আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। এছাড়া রোববারের দ্বিতীয় দফার হামলায় ৪ নম্বর টার্মিনালে আগুন ধরে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও ১১ জন আহত হন। পাশাপাশি দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আঘাত হেনেছে হুথি মিসাইল। গত এক দশকের মধ্যে সৌদির মাটিতে এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও মারাত্মক আক্রমণ, যা এখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: আরব নিউজ