ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ভূগর্ভস্থ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সেকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি স্পষ্ট জানান, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ইরানকে পরমাণু বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পাহাড়ের লাখ লাখ টন পাথরের নিচে অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় পুতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নজর রয়েছে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ওপর। তিনি বলেন, আমাদের হয়তো সেখানে হামলা চালাতে হতে পারে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেটি ধ্বংস করে দেব। এটি ইরানের অন্যতম প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে মাটির গভীরে তৈরি একটি সুরক্ষিত স্থাপনা। ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইরান যদি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পায়, তবে তারা নিশ্চিতভাবে তা ব্যবহার করবে।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ সামরিক অভিযান চললেও, এই যুদ্ধে আমেরিকা কোনো পারমাণবিক বোমা বা স্থলবাহিনী পাঠাবে না বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমার পারমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কোনো ইচ্ছা বা প্রয়োজন নেই। আমাদের কাছে বিকল্প শক্তিশালী ব্যবস্থা রয়েছে।
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘মাদার অব অল বোম্বস’ বা জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) বোমা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প সরাসরি কিছু নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, এই শক্তিশালী বোমাটি একটি প্রচলিত (কনভেনশনাল) অস্ত্র, কোনো পারমাণবিক বোমা নয়।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের এই বক্তব্য ও মার্কিন হুমকিকে তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের উসকানিমূলক হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিতেই এসব অজুহাত তৈরি করছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স