ইরান সীমান্তে মার্কিন ও ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের মহড়া

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। নতুন এক দফায় ইরানে সামরিক হামলার প্রস্তুতি হিসেবে দেশটির সীমান্ত পর্যন্ত কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান নিয়ে যৌথ মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের জ্বালানি ক্ষেত্র, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামোয় স্বল্প সময়ে অত্যন্ত তীব্র ও বিধ্বংসী আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে দুই দেশের।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত সোমবার এই সুদূরপ্রসারী মহড়াটি পরিচালনা করে। মহড়ায় অংশ নেওয়া ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ইসরায়েল থেকে ছাড়ার পর সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে সরাসরি ইরান সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং আবার নিরাপদ ঘাঁটিতে ফিরে আসে। এই ফ্লাইট পাথটি মূলত ইরানে সম্ভাব্য মূল হামলার ছকের সঙ্গে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Trump-Netaniyahu
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর যে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, এবার তার নতুন ধাপে তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে চরম সংকটে ফেলে সমঝোতায় বাধ্য করাই ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মূল লক্ষ্য।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু চলতি অক্টোবরের শুরুতেই এই হামলা চালানোর জন্য ওয়াশিংটনকে চাপ দিলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে রাজি হননি। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরেই এই হামলাটি চালানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। এমনকি ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিছুটা চাপে থাকা নেতানিয়াহু ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন পিছাতে বা অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনাকালেও এই আগ্রাসন পরিচালনা করতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য এই সংঘাত মোকাবিলায় বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ এবং উভচর রণতরি ‘ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড’ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে।

Qalibaf Meets Leader
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই পরিকল্পিত যৌথ হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন করে হামলা চালানো হলে হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া বিশ্ব যোগাযোগের সাবমেরিন কেবলগুলো কেটে দেওয়া হবে।

সমুদ্রের তলদেশের এই ইন্টারনেট কেবলগুলো বিচ্ছিন্ন করা হলে বৈশ্বিক ব্যাংকিং সেক্টর, আর্থিক লেনদেন এবং ইন্টারনেট নির্ভর আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে নয়, বরং যেকোনো সামরিক আগ্রাসন নস্যাৎ করে চরম প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই প্রস্তুত হচ্ছে।