কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর আকাশে যুক্তরাষ্টের সামরিক বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক 'এমকিউ-১' (MQ-1) ড্রোন লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সফলভাবে ধ্বংস করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইরানের ইন্টিগ্রেটেড এয়ার-ডিফেন্স নেটওয়ার্কের যৌথ পরিচালনায় চালকহীন মার্কিন বিমানটিকে ভূপাতিত করা হয়। প্রণালীর পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর সিরিকের বিপরীতে আকাশসীমায় ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানের ওপর ইরানের ধারাবাহিক হামলার এটি সবশেষ ঘটনা। এর আগে চলতি মাসেই আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী 'এমকিউ-৯ রিপার' ড্রোন ভূপাতিত করেছিলো। এমনকি গত মাসেও কৌশলগত এই প্রণালীর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একই ধরনের একটি মার্কিন 'এমকিউ-১' ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংসের দাবি করেছিল ইরানি সেনাবাহিনী।
২০২৬ সালে পারস্য উপসাগরের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত 'এমকিউ-১ প্রিডেটর' বা সমগোত্রীয় ড্রোনের এই পুনঃআবির্ভাব মূলত মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর বাড়তে থাকা প্রচণ্ড চাপের দিকেই নির্দেশ করছে। মার্কিন বিমান বাহিনী ২০১৮ সালেই এই এমকিউ-১ মডেলটিকে অবসরে পাঠিয়েছিল এবং অপেক্ষাকৃত আধুনিক 'এমকিউ-৯ রিপার' ব্যবহার শুরু করেছিল।
তবে মে মাসের শেষে ইউএস সেন্টকম) যখন ইরানের হাতে একটি এমকিউ-১ ধ্বংসের কথা নিশ্চিত করে, তখনই প্রশ্ন ওঠে, পেন্টাগন কি পুরনো প্রিডেটর বহর পুনরায় সক্রিয় করেছে, নাকি সেটি মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘এমকিউ-১সি গ্রে ঈগল’ ছিল।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইয়েমেনের সশস্র বাহিনীর হাতে একের পর এক অত্যাধুনিক 'রিপার' ড্রোন ধ্বংস হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন তীব্র ড্রোন সংকটে ভুগছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হাতে পেন্টাগনের ৫০টিরও বেশি 'এমকিউ-৯ রিপার' ধ্বংস হয়েছে, যা তাদের মোট ড্রোন বহরের প্রায় ৩০ শতাংশ। এছাড়া ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ইয়েমেনি বাহিনীর হাতে ধ্বংস হয়েছে আরও অন্তত ৩০টি রিপার ড্রোন।
যদিও ওয়াশিংটন বর্তমানে তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প ড্রোন তৈরির চেষ্টা করছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে পুরনো চালকহীন বিমান ফিরিয়ে আনার এই ঘটনা অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক নজরদারি ও অভিযানের সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি-ফার্স নিউজ এজেন্সি