ইসরাইল নির্বাচনে ১৯ আসন পেয়ে ‘কিংমেকার’ আরব দলগুলো

ইসরাইলের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দেশটিতে একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট তৈরি হয়েছে। ফলে ১২০ আসনের নেসেটে ক্ষমতার লড়াইয়ে চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরবর্তী নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির অন্তর্বর্তী বা ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ইসরাইলের আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো। রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করে তারা এখন সরকার গঠনের মূল নিয়ন্ত্রক বা 'কিংমেকার' ভূমিকা গ্রহণ করেছে।

গত ২৭ অক্টোবরের ভোটে ১২০ আসনের নেসেটে কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৬১টি আসনের জাদুকরী সংখ্যা স্পর্শ করতে পারেনি:

নেতানিয়াহু সমর্থিত ডানপন্থী জোট (৫৩ আসন): লিকুদ পার্টি- ২৭, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম- ৭, ওতজমা ইয়েহুদিত- ৭ এবং রিলিজিয়াস জায়োনিজম- ৬টি আসন পেয়েছে।

আইজেনকোট সমর্থিত বিরোধী ইহুদি জোট (৪৮ আসন): গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটে ইয়াশার- ২১, বি'ইয়াহাদ- ১২, দ্য ডেমোক্র্যাটস- ৮ এবং ইসরায়েল বেইতেনু- ৭টি আসন পেয়েছে।

আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো (১৯ আসন): জয়েন্ট লিস্ট- ১১ এবং রা-আম ৮টি আসনে জয়লাভ করেছে।

পরবর্তী প্রক্রিয়া ও ক্ষমতার সমীকরণ: নির্বাচনের এই ফল আনুষ্ঠানিকভাবে চার নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের কাছে জমা দেয়া হবে। পরবর্তীতে ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। শপথ গ্রহণের পর ১১ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় কোনো সদস্যকে নতুন সরকার গঠনের জন্য মনোনীত করবেন। মনোনীত সদস্য সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন, যা প্রয়োজনবোধে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে।

আইজেনকোটের প্রতিক্রিয়া: ফলাফল প্রকাশের পর ইয়াশার পার্টির প্রধান আইজেনকোট দাবি করেছেন যে, দেশের ভোটাররা নেতানিয়াহু সরকারের বিপক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। তিনি বলেন, পরিসংখ্যান যেভাবে পর্যালোচনা করুন না কেন, প্রায় পাঁচ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে ইসরায়েলের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ গত ৭ অক্টোবরের ব্যর্থ সরকার ও বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ এড়ানোর বিপক্ষে এবং পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ইসরাইলে নেসেটই সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে।

বর্তমানে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কোনো পক্ষের জন্যই সরকার গঠন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, যা ইসরায়েলি রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস