পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালী ও কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নজরদারি ব্যর্থ করে দুটি সর্বাধুনিক আমেরিকান ‘এমকিউএম-১৭০’ ড্রোন অক্ষত অবস্থায় জব্দ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
একই সাথে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি উন্নত ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে সংস্থাটি।
সোমবার রাতে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসির পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ডিভিশন অত্যাধুনিক ‘ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার’ বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশেই দুটি মার্কিন চালকবিহীন বিমানকে (ড্রোন) নিষ্ক্রিয় করে মাটিতে নামাতে বাধ্য করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন করে এই দুটি ড্রোন আটকের পর এখন পর্যন্ত ইরান কর্তৃক জব্দ করা মার্কিন ‘এমকিউএম-১৭০’ ড্রোনের সংখ্যা দাঁড়াল চারটিতে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর পূর্বাঞ্চলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫তম ‘এমকিউ-৯’ ড্রোনটি।
আমেরিকান সংস্থা গ্রিফন অ্যারোস্পেসের তৈরি ‘এমকিউএম-১৭০’ ড্রোনগুলো মূলত ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নজরদারি ও টার্গেট চিহ্নিত করার কাজে ব্যবহার করছিল মার্কিন বাহিনী।
আইআরজিসি আরও জানায়, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা মোট ১৪টি মার্কিন ‘এমকিউ-১’ ড্রোনও সফলভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কোনো প্রকার ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রথাগত অস্ত্র প্রয়োগ ছাড়াই কেবল দেশীয় ইলেকট্রনিক যুদ্ধ কৌশলে শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন নিয়ন্ত্রণে আনার ঘটনাকে নিজেদের বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখছে তেহরান।
বিবৃতিতে আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, আক্রমণকারী মার্কিন শত্রু ড্রোন মোতায়েনের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য অর্জনে আবারও ব্যর্থ হয়েছে এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার ব্র্যাড কুপারের ব্যর্থতার তালিকায় আরও একটি অধ্যায় যুক্ত হলো।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-মার্কিন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে প্রতিনিয়ত মার্কিন ড্রোনের ধ্বংস ও জব্দ হওয়ার ঘটনা আমেরিকার নজরদারি ও সামরিক শক্তিকে মারাত্মক সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।