ট্রাম্পের নির্দেশ ইরানের বিমান বিধ্বংসী ঘাঁটিতে হামলা

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের একটি নতুন বিমান বিধ্বংসী সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র সফল বিমান হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন সকালে 'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস' টেলিভিশন শোতে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ তথ্য প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওরা (ইরান) একটি বিমান বিধ্বংসী ঘাঁটি তৈরি করেছিলো, এটি তৈরি হওয়া মাত্রই গত রাতে আমরা অত্যন্ত চমৎকারভাবে সেখানে আঘাত হেনেছি। এটিকে তিনি একটি ‘সীমিত বা ছোট আকারের হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

হামলা প্রসঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচন পরবর্তী সামরিক পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, আমি অনেক মানুষকে হত্যা করতে চাই না, তবে আমাদের যদি করতে হয়, তবে তা করতেই হবে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই গোপন সামরিক অভিযানের খবর প্রকাশ করে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্য জাহাজে ইরানের আক্রমণ প্রতিহত করতে ও আত্মরক্ষার্থেই এই সীমিত সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পরপর পাঁচটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্বীপে দুটি যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন।

একই সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও নিশ্চিত করেন, চলতি বছর (২০২৬) শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইলকে কোনো বার্ষিক অনুদান বা তহবিল দেবে না। ১০ বছর মেয়াদী নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় ২০২৮ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সাহায্য পাওয়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই এই অর্থ প্রদান বন্ধের চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে আমি ও বিবি নেতানিয়াহু চুক্তি করেছি যে আমরা বছরে যে ৪ বিলিয়ন ডলার দিতাম, তা বন্ধ করা হবে। আমরা ইতিমধ্যে একমত হয়েছি যে এই বছরের শেষ থেকে আমরা আর অর্থ দেব না। তবে তাদের সাহায্যের প্রয়োজন হলে আমরা সহায়তা করব।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই নেতানিয়াহু ট্রাম্পের ওপর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় সামরিক অভিযান শুরুর চাপ দিচ্ছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদে আলোচনা চলছে, যদিও ট্রাম্প এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না গিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথই খোলা রাখার আভাস দিচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি-গালফ নিউজ