ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি জোটের বিমান হামলায় অন্তত ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পরদিনই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কঠোর পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী। রোববার ভোরের দিকে পরিচালিত এই হামলায় রিয়াদের অভিজাত কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত সৌদি রাষ্ট্রীয় জ্বালানি জায়ান্ট সৌদি আরামকোর টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ঘটনার সময় রিয়াদের আর্থিক কেন্দ্রস্থল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এই হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল আরামকো টাওয়ার। আরও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও সৌদি আরামকোর কার্যালয় ভবনে দৃশ্যমান ক্ষতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, রিয়াদ অভিমুখে আসা দুটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, মধ্যআকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্ট বা ধ্বংস করার পর তার জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ আরামকো ভবনে গিয়ে পড়ায় এই ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।
এই পাল্টা পদক্ষেপের ঠিক একদিন আগে, শনিবার বিকেলে ইয়েমেনের রাজধানী সানার উপকণ্ঠে একটি বেসামরিক আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় সৌদি আরব। স্থানীয় আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেল জানায়, সানার বনি হুশাইশ জেলার আল-শরিয়া এলাকায় চালানো এই বিমান হামলায় একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২২ জন নিহত এবং আরও ৩০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন।
গত জুলাই মাসে সৌদি আরব সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণ করার পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে এই নতুন উত্তেজনার সূচনা হয়। এর জবাবে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি বিমানবন্দর, তেল অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরে সৌদি তেল ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালিয়ে "ব্লকডের জবাবে ব্লকড" নীতি প্রয়োগ করে আসছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সানায় রিয়াদপন্থী সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইয়েমেনে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা ও অবরোধ শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বহু বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ইয়েমেনে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবসৃষ্ট মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও সৌদি আরব তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং ইয়েমেনি বাহিনীর পাল্টা প্রতিরোধ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এএফপি-প্রেস টিভি