কিস্তিতে ঘুষ নিচ্ছেন গুজরাটের সরকারি কর্মকর্তারা

ইলেকট্রনিকস, মোটরসাইকেল বা গাড়ি কিনতে মধ্যবিত্ত এখন ভরসা করে ইএমআই বা কিস্তিতে। ক্রেডিটে কেনা জিনিসের টাকা অল্প অল্প করে সুদসহ পরিশোধে অভ্যস্ত হয়েছেন অনেকেই। এবার ভারতের গুজরাটে ঘুষও নেওয়া হচ্ছে কিস্তিতে!

গুজরাট দুর্নীতি দমন ব্যুরোর (এসিবি) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছর এ ধরনের অন্তত দশটি ঘটনা সামনে এসেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস’র।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছরের শুরুতে রাজ্যের এক ব্যক্তিকে পণ্য ও পরিষেবা কর থেকে বাঁচতে ২১ লাখ রুপি ঘুষ দিতে বলা হয়। আর সেটি যেন ওই ব্যক্তির উপর বোঝা হয়ে না দাড়ায়, সেজন্য ইএমআইয়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ লাখ রুপি করে পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হয়। এ ধরনেরই আরেকটি কাজের জন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এক পুলিশ কর্মকর্তা চার কিস্তিতে ১০ লাখ রুপি ঘুষ দাবি করেছিলেন।

এদিকে, সুরাটের এক পঞ্চায়েত প্রধান ভূমি সমতল করার জন্য এক গ্রামবাসীর কাছ থেকে ৮৫ হাজার রুপি ঘুষ দাবি করেন। যেহেতু ভুক্তভোগীর আর্থিক অবস্থা ভালো না, তাই ৩৫ হাজার ডাউনপেমেন্ট ও বাকি অর্থ তিন কিস্তিতে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় তাকে।

এসিবির ডিরেক্টর ও ডিজিপি (আইন ও শৃঙ্খলা) শমসের সিং বলেন, মূল্যবান কোনো জিনিস কিনতে ইএমআইয়ের প্রচলন আছে। কিন্তু এখন সরকারি সংস্থাগুলোতে ঘুষ নেওয়ার জন্যও এ পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে এবং পদ্ধতিটি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

তিনি জানান, ‘আমরা পুরো ঘটনার সামান্য অংশই জানতে পেরেছি। আমাদের কাছে যারা অভিযোগ করেছেন, তারা সরকারি সংস্থায় ঘুষের ডাউন পেমেন্ট করার পর যোগাযোগ করেছেন। বিস্তর তদন্ত চলছে, পরবর্তী সময়ে সব জানানো হবে।’