নরেন্দ্র মোদীর টানা তৃতীয় মেয়ারের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা সন্ধ্যায় শপথ নিতে যাচ্ছেন, তবে এদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও অর্থসহ গুরুত্বপূর্ণ সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন বিজেপি নেতারাই।
রোববার সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে হবে ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি দ্রেীপদী মুর্মু শপথ পড়াবেন। আর এর মধ্য দিয়েই টানা তৃতীয়বার শপথ নিয়ে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন নরেন্দ্র মোদী।
এদিনই শপথ হবে মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও। নতুন মন্ত্রিসভায় ৩০ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং প্রতি ও উপমন্ত্রী মিলিয়ে এর আকার ৭৮ থেকে ৮১ জন হতে পারে বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে এবার নরেন্দ্র মোদী হয়ে পড়েন পরনির্ভর। তাই জোট সঙ্গী চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশ পার্টির (টিডিপি) ১৬টি এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) ১২টি আসনের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল হতে হয়।
সুযোগ বুঝে নাইডু, নীতীশও ব্যাপক দরকষাকষিতে নামে। শেষ পর্যন্ত টিডিপি চারজন এবং জেডিইউ থেকে দুইজন করে মন্ত্রী হচ্ছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম ইকনোমিকস টাইমস উল্লেখ করেন।
পত্রিকাটি লিখেছে, বিজেপি নেতা অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, এস জয়শঙ্কর এবং নীতিন গড়করির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অবস্থান আগের মতোই থাকছে এবং স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, অর্থ এবং পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গেুলো নিয়ে শরিকদের সঙ্গে আলোচনায় বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা আশা করছেন, সমঝোতা করে মন্ত্রণালয় ভাগাভাগির মাধ্যমে জোটের গতিশীলতা সংসদীয় রাজনীতিকে এক নতুন রূপ দেবে। আর নরেন্দ্র মোদীও আগের তুলনায় এবার আরও সমঝোতামূলক অবস্থানে আসবেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) সাধারণ সম্পাদক ও বর্ষীয়ান নেতা রাম মোহন নাইডু মন্ত্রী হচ্ছেন। তিনবারের এই সংসদ সদস্য ১৯৯৬ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। টিডিপির আরেক নেতা চন্দ্রশেখর পেমমাসাননি মন্ত্রী হচ্ছেন। ধনকুবের এই চিকিৎসককে কোন মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে তা এখনও নিশ্চিত না।
নীতীশ কুমারের জেডিইউয়ের সাবেক সভাপতি লালন সিংকে মন্ত্রী করা হচ্ছে। জেডিইউয়ের আরেক নেতা রামনাথ ঠাকুকর করা হচ্ছে মন্ত্রী। লোক জনশক্তি পার্টির (এলজেপি) নেতা বিহারের চিরাগ পাসোয়ানকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাবেক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ানের ছেলে চিরাগ বাবার মৃত্যুর পর রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেব গৌড়ার ছেলে এইচডি কুমারস্বামীকে এবার মন্ত্রীত্ব দিচ্ছে বিজেপি। কুমারস্বামী জেডিএসের নেতা এবং কর্ণাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী হচ্ছেন আপনা দলের সভাপতি অনুপ্রিয়া প্যাটেল। সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্যাটেলকে কোন মন্ত্রণালয় দেয়া হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির দুই নেতা সুকান্ত মজুমদার এবং শান্তনু ঠাকুর প্রতিমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পেতে পারেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।