গাজায় বুঁদ পাইলট, ঘুমের ওষুধ খেয়ে ককপিটে!

আকাশসীমায় যেন কোনো দারুণ থ্রিলার সিনেমার চিত্রনাট্য উন্মোচিত হলো! ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে মাঝআকাশে হঠাৎ ৩০০ ফুট উচ্চতা হারিয়ে ফেলার ভয়াবহ ঘটনার নেপথ্যে উঠে এলো এক বিস্ফোরক সত্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৪৫ জন আরোহীর প্রাণ ঝুঁকিতে ফেলা সেই বিমানের পাইলট-ইন-কমান্ডের রক্তে দু-দুবার মিলেছে 'মরিয়ান' বা গাজার উপস্থিতি! শুধু তা-ই নয়, উড্ডয়নের আগে তিনি সেবন করেছিলেন কড়া ঘুমের ওষুধও।

গত ৪ আগস্টের এই ঘটনায় বিমানে থাকা ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু সদস্যের মধ্যে অন্তত ২০ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু সদস্য গুরুতর আহত হন। উড়িষ্যার ওপর দিয়ে উড়ার সময় বিমানটি হঠাৎ মুখ থুবড়ে ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেলে চারদিকে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

Air India Pilot 04
ফুকেটে নাইটপার্টি থেকে ককপিটে মাতলামি

এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ তদন্ত রিপোর্টের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার সূত্রপাত দিল্লি থেকে ফুকেটে যাওয়ার পথেই। উড্ডয়নকালে ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় নিয়ম অনুযায়ী প্রোটকল মেনে ককপিটে এক কেবিন ক্রুকে ডেকে পাঠান ওই পাইলট। কিন্তু সেই ক্রু সঠিকভাবে ককপিটের কাজ সামলাতে না পারায় পাইলট তাঁকে বেশ বকাঝকা করেন।

পরে সেই রাগ ভাঙাতে বা মান-অভিমান মেটাতে ফুকেটে গিয়ে পুরো ক্রু টিমকে নিয়ে ধুমধাম ‘নাইট পার্টি’তে মাতেন তিনি। আর সেই পার্টির রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় আসল নাটক!

Air India Pilot 02
'
ঘুম আসছিল না, তাই পিল খেয়েছি'

পাইলট তাঁর ফ্লাইট সেফটি বয়ানে দাবি করেছেন, পারিবারিক ঝামেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ঘুমে চরম সমস্যা হচ্ছিল এবং পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি ঘুমের ওষুধ খাচ্ছিলেন। ফুকেটের রাত্রিযাপনের সময়ও নাকি তাঁর সহজে ঘুম আসছিল না! তবে তিনি অজুহাত দিয়েছেন টাইট রোস্টার ডিউটির, যার কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ মেলেনি। তবে আসল বোমাটি ফাটে ড্রাগ টেস্টের রিপোর্টে, যেখানে পর পর দুইবার তাঁর শরীরে গাজার উপস্থিতি ধরা পড়ে!

ঘটনার সময়ে ককপিটেই ছিলেন না পাইলট!

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও এক ভয়াবহ তথ্য মিলেছে। বিমানটি যখন হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে আছড়ে পড়ছিল, তখন ওই প্রধান পাইলট ককপিটে নিজের সিটে বসেই ছিলেন না! উড্ডয়নের দায়ভার তখন একা সামলাচ্ছিলেন সহকারী পাইলট।

Air India Pilot 03
উচ্চতা হারানোর পর তিনি কেবিনে এসে আহত যাত্রীদের খোঁজ নেওয়ার বাহানায় হুমকি দিয়ে বলেন, কেউ যেন এই ঘটনার কোনো ভিডিও বা ছবি না তোলে! এরপর দিল্লিতে অবতরণের পর দেখা যায়, ওই পাইলট নিজের পায়ে ঠিকমতো দাঁড়াতেই পারছেন না। সোজা হয়ে হাঁটতে না পারায় তাঁকে ধরে এনে বসাতে হয় এবং প্রস্রাবের নমুনা দেয়ার সময়ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তাঁকে ধরে রাখতে হয়েছিল!

আপাতত এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই বিমানের দুই পাইলটকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং পুরো ঘটনার জোর তদন্ত চলছে। আকাশের বুকে যাত্রীদের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এভিয়েশন সেক্টরে চরম তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি