রোগীর মূত্রথলি থেকে ৩.১ কেজির পাথর অপসারণ!

রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো ঘটনা! রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন স্ট্রোকের চিকিৎসা নিতে, আর ডাক্তাররা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে রীতিমতো চোখ কপালে তুললেন! পেটের ভেতর একি সাধারণ কোনো পাথর নাকি সাক্ষাৎ আস্ত এক পাথরখনি? শ্রীলঙ্কার ত্রিনকোমালি হাসপাতালে ঘটে গেছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম এক তাজ্জব ঘটনা। ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মূত্রথলি থেকে অস্ত্রোপচার করে বের করা হয়েছে ৩.১ কেজি (প্রায় ৬.৮ পাউন্ড) ওজনের এক দানবীয় পাথর!

চিকিৎসকদের দাবি, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত শল্যচিকিৎসার ইতিহাসে পেটের ভেতর থেকে উদ্ধার করা এটাই সর্বকালের সবচেয়ে বড় ও ভারী পাথর।

Srilanka Stone 03
অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া প্রধান চিকিৎসক ডক্টর প্রহলহান বালেকোরেশান বিবিসি সিংহলীকে বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, অপসারিত এই বিশালাকার পাথরটির সাইজ আর রূপ দেখে সার্জনদেরই চক্ষু চড়কগাছ! পাথরটির ওজন ছিল ঠিক একটি সদ্যজাত পূর্ণাঙ্গ মানব শিশুর সমান এবং এর আকৃতি দেখতে ছিল একেবারে একটি বিশালাকার উটের পাখির ডিমের মতো। লম্বায় প্রায় ১৭ সেন্টিমিটারের এই পাথরটি রোগীর মূত্রথলিতে অন্তত ৫ থেকে ১০ বছর ধরে ধীরে ধীরে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করছিল।

রোগী মূলত স্ট্রোকের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর প্রস্রাবে চরম বাধা ও অস্বস্তি দেখা দিলে চিকিৎসকেরা আল্ট্রাসনোগ্রাম ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে এই ‘দৈত্যাকৃতির’ পাথরের সন্ধান পান।

মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায়, সাধারণত ১ সেন্টিমিটারের বড় পাথরকেই বিশাল মনে করা হয়, আর ৪ সেন্টিমিটারের বেশি হলে তাকে বলা হয় ‘জায়ান্ট’ বা দানবীয় পাথর। সেখানে ১৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই ৩.১ কেজির পাথরটি আগের সব রেকর্ড চুরমার করে দিয়েছে।

Srilanka Stone 02
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, এর আগে ২০০৩ সালে ব্রাজিলে এক রোগীর পেট থেকে ১.৯ কেজি (৪.২ পাউন্ড) ওজনের একটি পাথর বের করা হয়েছিল, যা এতদিন পর্যন্ত বিশ্বরেকর্ড হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিল। শ্রীলঙ্কার এই সার্জনরা ব্রাজিলীয় সেই রেকর্ড এক লহমায় ধূলিসাৎ করে দিলেন!

সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, এত বড় অস্ত্রোপচার ও বিশাল ভারী বস্তু অপসারণের পরও রোগী বর্তমানে শতভাগ সুস্থ ও ঝুঁকিমুক্ত রয়েছেন। স্ট্রোক ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক চিকিৎসার জন্য তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি