কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার এক

কলকাতার পার্ক স্ট্রিট ও নিউ মার্কেট সংলগ্ন মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত জন বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় হোটেলের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ মূল লিজগ্রহীতা আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত ও হোটেলের অগ্নিসুরক্ষা নিশ্চিতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন।

লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা আবু জাফরকে আটক করে এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করে। জানা গেছে, হোটেল ‘শিখা ইন’ তার নামেই লিজ বা ইজারা নেয়া ছিল। তবে হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রের খোঁজ এখনও মেলেনি। এই ঘটনার সূত্রে পাশের ‘যাপন’ হোটেলের কর্মীসহ আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Screenshot 2026-08-20 145257
ঘটনায় মৃত ৯ জনের দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হচ্ছে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রের খবর, ময়নাতদন্ত ও যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করার পর সরকারি নিয়ম মেনে শুক্রবার মরদেহদেহগুলো বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কলকাতার পর্যটন এলাকায় আসা বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করে দ্রুত ফিরে আসার তাগিদ দিচ্ছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অনেক পর্যটকই নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা হোটেল ছেড়ে অন্য নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে উঠছেন। পর্যটকদের একাংশের মতে, ওই এলাকার বহু হোটেলেরই পর্যাপ্ত আগুন সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই।

Screenshot 2026-08-20 145218
বুধবার ভোররাতের এই অগ্নিকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কেবল কলকাতা শহরই নয়, সমগ্র রাজ্যের আবাসিক হোটেলগুলির অগ্নিসুরক্ষা খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। বিশেষ করে কলকাতার প্রায় ১,২০০টি আবাসিক হোটেল পরিদর্শন ও পরীক্ষা করার প্রস্তুতি নিয়েছে কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা ও দমকল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি। বিরোধী বাম দল ও বিজেপি এই গাফিলতির জন্য দুর্নীতিকে দায়ী করেছে। সিপিএম নেতৃত্ব মোহাম্মদ সেলিম ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা নবীন মিশ্র প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও অনিয়মের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সিপিএম বলছে, দুর্নীতি ও নিয়মভঙ্গের কারণেই আজ এতগুলো তাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল।