তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি নদী ভোটে কোশীতে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া তীব্র ঢল ও আকস্মিক বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি জেলা। বিশেষ করে নুয়াকোট এবং ধাদিং জেলায় খরস্রোতা কাদা-পানির তোড়ে ভেসে গেছে একের পর এক গ্রাম।
এই ভয়াবহ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ বহু মানুষ, যার মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল আবিনারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলা থেকে এ পর্যন্ত আটটি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বন্যা কবলিত এলাকাগুলো থেকে অন্তত ৩৮৪ জন ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। বিদেশি নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ১০৫ জনই ভারতীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।
এছাড়া উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রসুয়া জেলা থেকে নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ জন সদস্য এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের ৭ জন সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল মোতায়েন করেছে।
বুধবারের এই আকস্মিক বন্যায় নেপালের বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের অন্তত ছয়টি প্রধান জলবিদ্যুৎ ও সাবস্টেশন কেন্দ্র ধ্বংসস্তূপে পরিণত বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ধস ও বন্যার তোড়ে একাধিক প্রধান মহাসড়ক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে নেপাল পুলিশ ও স্থানীয়দের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য উপত্যকাগুলো দিয়ে কাদা-পানির বিশাল স্রোত প্রচণ্ড শক্তিতে আছড়ে পড়ছে।
পুলিশ মুখপাত্র আবিনারায়ণ কাফলে এএফপি’কে জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক বিবরণ এখনো পাওয়া যায়নি, তবে বন্যার আকার এতটাই বিশাল যে নদীর তীরবর্তী বহু লোকালয় নিশ্চিহ্ন হয়ে থাকতে পারে। আমরা নদী তীরের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করেছি।
পরিস্থিতির সার্বিক পর্যালোচনায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ ন্যাশনাল ডিসাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সোশাল মিডিয়ায় দেয়া এক পোস্টে তিনি জানান, চিকিৎসক দল, স্কাউটস এবং রেডক্রসের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষাকালীন বৃষ্টিতে বন্যা ও ভূমিধস স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অঞ্চলে চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও প্রবণতা দিন দিন মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি-রয়টার্স