নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ধসে অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত অঞ্চলে এই বিপর্যয়ের কারণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো।
প্রাথমিকভাবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে হিমবাহ ধসে পড়ে এই আকস্মিক প্লাবনের সৃষ্টি হয়। তবে, মার্কিন ভূখাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা নতুন বিশ্লেষণে নিশ্চিত করেছে, ঘটনাটি মূলত কোনো ভূমিকম্প ছিল না। বরং বিশাল একটি ভূমিধসের প্রবল শক্তির কারণেই ভূমিকম্পের মতো কম্পন বা 'সিসমিক এনার্জি' তৈরি হয়েছিল।
পরবর্তীতে এই অস্থায়ী বাঁধটি ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি ও কাদার তোড় একসাথে নিচের দিকে নেমে এসে এই প্রলয়ংকরী বন্যার রূপ নেয়। তবে ঘন বর্ষার মেঘের কারণে স্যাটেলাইট চিত্র পুরোপুরি স্পষ্ট না হওয়ায় বৈজ্ঞানিকেরা ঘটনার চূড়ান্ত ধারা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও নতুন বন্যার আশঙ্কা: দুর্গত এলাকায় নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে উপরে প্রবাহিত হওয়ায় এবং পানির উচ্চতা না কমায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো অনেক স্থানেই অবতরণ করতে পারছে না। ফলে কাদা ও বানের পানিতে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধার করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশাল এলাকাজুড়ে যৌথ উদ্ধার অভিযান চলছে।
বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করেছেন যে, লেন্দে খোলার উজান এলাকায় এখনো পলি ও পাথরের অবরুদ্ধতা রয়ে গেছে, যা যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যা বা পাহাড়ি ঢল তৈরি করতে পারে। এই নদীর পানি ভারতের প্লাবনভূমিতে প্রবাহিত হওয়ায় নেপাল সীমান্তবর্তী ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশ রাজ্যে বিশেষ বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উদ্ধার তৎপরতা: উদ্ধার অভিযানে নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ পূর্ণ শক্তিতে কাজ করছে। এছাড়া সীমান্ত ক্রসিং ও ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে চীন অন্তত ৫৭৪ জন উদ্ধারকারী কর্মী মোতায়েন করেছে। প্রতিবেশি দেশ ভারত কাঠমান্ডুর সাথে সরাসরি সমন্বয় করে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া সরকার তাদের নাগরিকদের উদ্ধারে ফায়ার ও পুলিশ কর্মকর্তা সমন্বয়ে একটি দ্রুত সাড়া প্রদানকারী বিশেষ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিব্বত ও নেপালের নিচু অঞ্চলের মানুষদের জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি