নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যায় এক প্রলয়ংকরী মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। তিব্বতের জিরোং পোর্ট থেকে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মুহূর্তের মধ্যে কীভাবে এক প্রকাণ্ড কাদা ও পানির তোড় এসে পুরো এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
তিব্বত থেকে ধেয়ে আসা এই আকস্মিক প্লাবন পরবর্তীতে নেপালের রসুয়া জেলায় প্রবেশ করে ভোটে কোশী নদীর অববাহিকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
বুধবারের এই প্রলয়ংকরী বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও ভারতীয় পুণ্যার্থীসহ প্রায় ৫০০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন সংস্থায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং তিব্বতের জিরোং পোর্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাহাড়ের উজান থেকে আচমকা কাদা, পাথর ও নোংরা পানির এক বিশাল ঢেউ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নেমে আসে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এটি এলাকার একটি পার্কিং লটে আছড়ে পড়ে, সারিবদ্ধ গাড়িগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং চারপাশ ধূলিশূণ্য ও ঘন কুয়াশায় ঢেকে দেয়।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, কাদার স্রোত ধেয়ে আসার পর সাধারণ মানুষ জীবন বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন, কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বানের পানি তাদের গ্রাস করে ফেলে। চোখের পলকে সীমান্ত কেন্দ্রটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং চতুর্দিকে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
নেপালি কর্মকর্তাদের মতে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে তিব্বত অংশ থেকে উদ্ভূত এই পাহাড়ি ঢল ভোটে কোশী নদীর মাধ্যমে প্রবল বেগে নেপালে প্রবেশ করে। এই বন্যায় তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রসুয়া ও ধাদিং জেলা এবং রাজধানী কাঠমান্ডুর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নুয়াকোট জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাগ্রস্ত এলাকা থেকে অন্তত ৫৭৯ জন ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক।
- ভারতীয় নাগরিক: নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়। ‘সম্রাট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল’ নামক এজেন্সির মতে, নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে অন্তত ৫৯ জন কৈলাশ মানসরোবর যাত্রার পুণ্যার্থী ছিলেন।
- অন্যান্য দেশ: এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং নেদারল্যান্ডসের নাগরিকরাও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপালি সেনাবাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার দুর্গম এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে এএফপি-কে জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাপ এখনও করা সম্ভব হয়নি, তবে বন্যার তীব্রতা অত্যন্ত বেশি এবং বহু জনবসতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা নদী তীরবর্তী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করেছি এবং আমাদের সব সম্পদ উদ্ধারকাজে নিয়োজিত করেছি।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলা বর্ষা মৌসুমে নিয়মিতই প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। গত বছরের জুলাই মাসেও এই জিরোং পোর্টের কাছে এক ভূমিধসে ১৭ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন। তবে এবারের বিপর্যয় বিগত সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি