শত শত কিলোমিটার দূরে পাওয়া যাচ্ছে মরদেহ

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ভেসে আসা প্রলয়ংকরী এবং অভূতপূর্ব প্লাবনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে শুধু নেপালেই উদ্ধার হয়েছে ৭৩৪ জনের মরদেহ।  শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনো কমপক্ষে৩,০৪৪ জন মানুষ নিখোঁজ বা লাপাত্তা রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ছয় শতাধিক বিদেশী নাগরিক রয়েছেন।

রোববার সকাল ৯টায় দেওয়া এক জরুরি আপডেটে নেপালের ন্যাশনাল ডিসাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি প্রাণহানি ও উদ্ধার তৎপরতার এই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরেছে।

Nepal Flood 08
বন্যার তোড়ে ভুক্তভোগীদের লাশ ও ধ্বংসস্তূপ ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদী হয়ে শত শত কিলোমিটার নিম্নাঞ্চলে ভেসে গেছে। ফলে দুর্ঘটনাস্থল থেকে বহুদূরের জেলাগুলো থেকে একের পর এক মরদেহ এবং মানব অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে।

নিহতের সংখ্যা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা প্রশাসনের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অজ্ঞাত পরিচয় লাশগুলো সংরক্ষণে এবং স্বজনদের মাধ্যমে শনাক্তকরণের জন্য বিভিন্ন জেলার ২১টি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজ ২,৪৯৮ জনের মধ্যে রসুয়া জেলা থেকেই ৫৬২ জন মানুষের কোনো হদিস মিলছে না। এছাড়া নুয়াকোটে ১১৫ জন এবং মাকওয়ানপুরে ৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে যুক্ত ৯৩৩ জন  এখনো নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন।

Nepal Flood 06
পাশাপাশি ৫৮৯ জন বিদেশী নাগরিক এবং তাঁদের সাথে ভ্রমণরত ১২৭ জন নেপালি গাইড ও সহকর্মী লাপাত্তা। নিরাপত্তা বাহিনীরও ৮৫ জন সদস্য উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে নিজেরা তলিয়ে গেছেন, যার মধ্যে নেপাল সেনাবাহিনীর ৪৫ জন, নেপাল পুলিশের ২৭ জন এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। সরকারি হিসাবে বন্যায় এ পর্যন্ত ২৪২ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২০ হাজার (১৯,৮৯৫) নিরাপত্তা সদস্যকে অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযানে নিয়োজিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নেপাল সেনাবাহিনীর ৮,৩৯৯ জন, পুলিশের ৭,২১৩ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৪,২০৩ জন সদস্য দিনরাত কাজ করছেন।

নিরাপত্তা বাহিনী এ পর্যন্ত ৮,১৮৬ জন পানিবন্দি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছে। উদ্ধার অভিযানে বড় ভূমিকা রাখছে হেলিকপ্টার বহর।

Nepal Flood 01
টানা দুই দিনের অভিযানে একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলের ভেতরে আটকা পড়া ২৭৯ জন শ্রমিককে হেলিকপ্টারের সাহায্যে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২২৭ জন বিদেশী পর্যটককে হেলিকপ্টারে করে দুর্গম এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নেপাল সরকার সরাসরি নগদ অর্থ ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। জরুরি সহায়তা হিসেবে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলাকে ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) রুপি করে এবং ধাদিং জেলাকে ৫ কোটি রুপি নগদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫টি স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিটের মধ্যে আরও ৬৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি বিতরণ করা হয়েছে।

খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনে ৩৭টি ভারী ট্রাক এবং ৭টি হেলিকপ্টার ফ্লাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারী উদ্ধার যন্ত্রপাতি ও হেলিকপ্টার সচল রাখতে নুয়াকোটে ৩৬ হাজার লিটার ডিজেল ও ২৪ হাজার লিটার পেট্রোল মজুদ রাখা হয়েছে। উদ্ধার কাজে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার লিটার বিমান জ্বালানি ব্যয় হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের হাতে আরও ১৪ হাজার লিটার এভিয়েশন ফুয়েল মজুদ রয়েছে।

তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট