নেপাল সীমান্তে সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদের পানি সম্পূর্ণ নিষ্কাশিত!

গত সপ্তাহের প্রলয়ঙ্করী হিমধসের পর নেপাল-চীন সীমান্তে সৃষ্ট বিপজ্জনক কৃত্রিম হ্রদটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রবাহের মাধ্যমে পুরোপুরি নিষ্কাশিত হয়ে গেছে। রোববার চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশাল এই কৃত্রিম জলাধার খালি হয়ে যাওয়ার খবর নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য সাময়িক স্বস্তি নিয়ে এলেও, রোববার ত্রিশূলী নদীতে নতুন করে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে একাধিক মহাসড়ক ও সেতু ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে এখনও নতুন দুর্যোগের সম্ভাবনা পুরোপুরি কেটে যায়নি।

লাংটাং রি শৃঙ্গের উত্তর ঢালে গত বুধবারের বিশাল হিমবাহ ও পাথর ধসের পর নেপালের ছো ছেন খোলা এবং চীনের পুরেপু সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে এই কৃত্রিম হ্রদটির সৃষ্টি হয়েছিল।

Nepal Flood 11
চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম চায়না ডেইলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধসে পড়া স্তূপের পেছনে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে ছিল। তবে মন্ত্রণালয়ের জরুরি জলবিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ দল নিশ্চিত করেছে, জমে থাকা পানি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া নালা দিয়ে সম্পূর্ণ বেরিয়ে গেছে এবং নদীগুলোর পানির প্রবাহ এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।

চেংদুতে অবস্থিত চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের নেপালি বিজ্ঞানী নীতিশ খডকা জানান, তাঁর চীনা সহকর্মীদের পাঠানো আলোকচিত্রে দেখা গেছে যে নিচের কৃত্রিম হ্রদটি সম্পূর্ণ খালি হয়ে গেছে। এমনকি উপরের অংশে থাকা অন্য একটি হ্রদেরও অর্ধেকের বেশি পানি বেরিয়ে গেছে, যা আকস্মিক বিস্ফোরণের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

Nepal Flood 10
সীমান্তের হ্রদের পানি নিষ্কাশনে বড় বিপদ কাটলেও রোববার থেকে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকায় নতুন করে পানি বাড়তে শুরু করেছে, যা আগে থেকেই প্লাবিত হওয়া এলাকাগুলোতে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। ফুলে-ফেঁপে ওঠা ত্রিশূলী নদীর প্রবল স্রোতে নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ধাদিংয়ের কৃষ্ণভীর এলাকায় নদীর ভাঙন এবং তৎপরবর্তী বড় ধরণের ভূমিধসের কারণে 'পৃথ্বী হাইওয়ে'-র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুগলিন-কাঠমান্ডু সংযোগ সড়কটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

এছাড়া রোববার ত্রিশূলী নদীর পানির তীব্র তোড়ে গোর্খার ঘ্যাচোক এবং ধাদিংয়ের চারাউদিকে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুলন্ত সেতু সম্পূর্ণ ভেসে গেছে।

Nepal Flood 12
চীনা কর্তৃপক্ষ এর আগে সতর্ক করেছিল যে, টানা বৃষ্টির কারণে কৃত্রিম বাঁধ উপচে বড় ধরনের প্লাবন ঘটতে পারে। তবে স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে ধীরে ধীরে পানি নিষ্কাশনের দৃশ্য স্পষ্ট হওয়ায় এবং শেষ পর্যন্ত হ্রদটি খালি হয়ে যাওয়ায় বড় ধরণের দ্বিতীয় দফা বিপর্যয়ের ভয় আপাতত কেটেছে, যদিও রসুয়া ও ত্রিশূলী নদীর নিম্নাঞ্চলে ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতি এখনো বিপজ্জনক রূপ নিয়ে রয়েছে।

তথ্যসূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট