চীন সীমান্তে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা বসাচ্ছে নেপাল

চীন সীমান্ত সংলগ্ন তিমুরে এলাকায় পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি কমাতে একটি অত্যাধুনিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা (আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম) গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে নেপাল। সম্প্রতি হিমবাহ ধসের ঘটনায় এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় চার হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। রয়টার্সকে দেয়া নেপালি সরকারি সূত্রের তথ্যমতে, ভূকম্পন সেন্সর (সিসমিক সেন্সর), উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা এবং স্যাটেলাইট সংযোগের সমন্বয়ে এই প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে।

Nepal Flood 03
নেপালের রাসুয়া জেলার অন্তর্গত তিমুরে সীমান্ত এলাকাটি চীন-নেপাল-ভারত- ই তিন দেশের জন্যই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং উচ্চ-উচ্চতার সামরিক ও কৌশলগত অঞ্চল। সম্প্রতি যে নদীর করিডোর দিয়ে বিশাল কাদা, পানি ও পাথরের তোড় প্রবাহিত হয়ে শত শত ঘরবাড়ি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে, তিমুরে ঠিক সেই পথেই অবস্থিত। দুর্যোগের পর পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি চরম অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং নতুন করে একাধিক ধসের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই দ্রুততার সঙ্গে এই ব্যবস্থা পুনঃনির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

Nepal Flood 02
নতুন ব্যবস্থার মূল আকর্ষণ হতে যাচ্ছে 'ভিএসএটি' (ভিএসএটি - ভেরি স্মল অ্যাপারচার টার্মিনাল) নামক একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ সংযোগ। গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় সীমান্তের কাছে থাকা আগের চারটি পরিমাপক স্টেশন ও সেন্সর মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় এবং সাথে সাথে সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কও বিকল হয়ে পড়ে। ফলে উদ্ধারকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি বা সীমান্ত পারের আপডেট পাননি। ভিএসএটি প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ টেলিকম নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়লেও রিয়েল-টাইম তথ্য এবং ক্যামেরা ফুটেজ প্রধান নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পৌঁছাবে।

Nepal Drone 03
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ধর্মরাজ উপ্রেতি জানিয়েছেন, নতুন এই কেন্দ্রগুলো থেকে সরাসরি নদীর পানির উচ্চতা ও প্রবাহের তথ্য পাওয়া যাবে। নদীর পানি বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়লেই অবিলম্বে সংক্রিয়ভাবে বাসিন্দাদের ফোনে সতর্কতামূলক এসএমএস চলে যাবে। গত সপ্তাহের ঘটনায় সকাল ৮:৩২ মিনিটে সীমান্ত এলাকায় বন্যা আঘাত হানলেও সাধারণ মানুষের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছাতে ৯:১৩ মিনিট বেজে গিয়েছিল—যা বিপুল প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Nepal Flood 04
তিমুরেতে ইতোমধ্যে হেলিকপ্টার জরিপ সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালু করে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্য স্থানগুলোতেও স্টেশন স্থাপন করা হবে। যদিও চীন সীমান্তে গঠিত দুটি সাময়িক হ্রদের পানি নেমে গিয়ে তাৎক্ষণিক বিপজ্জনক পরিস্থিতি কিছুটা কমেছে, তবুও পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলের আবহাওয়া ও তুষারধস নিয়ে চীনের কাছ থেকে আরও রিয়েল-টাইম ডাটা আদান-প্রদানের বিষয়েও আলোচনা জোরদার করছে নেপাল সরকার।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স