উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর আন্তর্জাতিক জোট ‘ব্রিকস’ এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে শনিবার দিল্লির মাটিতে পা রেখেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে এই সফরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যেখানে উড়োজাহাজ থেকে নামার পর চীনা প্রেসিডেন্টকে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে দেখা যায়।
দীর্ঘ সাত বছরের মধ্যে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এটিই প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালে বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে ভারত ও চীনের সামরিক বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটেছিল। এই ঘটনায় ২০ জন ভারতীয় এবং ৪ জন চীনা সেনা নিহত হন।
এই সফরের মাধ্যমে এশিয়ার দুই বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের ভেঙে পড়া সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র শুক্রবার জানান, শনিবার সন্ধ্যায় মোদী ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে বহুপ্রতীক্ষিত এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
গত তিন বছরের মধ্যে এটি তাঁদের তৃতীয় সাক্ষাৎ। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং ভারতের সঙ্গে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সম্পর্ক পরিচালনা করতে প্রস্তুত। উভয় দেশের উচিত পারস্পরিক মতভেদগুলো সঠিকভাবে সমাধান করে একে অপরের প্রতি ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু এবং পরস্পরকে সাহায্যকারী অংশীদার হিসেবে এগিয়ে আসা।
মূল ব্রিকস সদস্য ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি এতে নতুন যুক্ত হওয়া মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশ্বনেতারাও এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।
এবারের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনটি এমন এক আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতি চরম উত্তপ্ত। আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই বৈশ্বিক সংকটগুলোর মাঝে মোদী ও শি জিনপিংয়ের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বৈঠককে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স