ব্রিকস সম্মেলন শুরু, নয়াদিল্লি ঘোষণায় ঐকমত্য

মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতা ও বৈশ্বিক উত্তেজনার আবহেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভারতের ভারত মণ্ডপমে সফলভাবে শুরু হয়েছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলন শুরুর পর ভারতীয় কূটনীতি এবং ব্রিকস শেরপাদের এক বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে জোটের সবকটি সদস্য দেশকে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সম্মত করানো সম্ভব হয়েছে। শনিবার বিকেল চারটায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক 'ব্রিকস নয়াদিল্লি ঘোষণা' প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নয়াদিল্লি ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করেই যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা করা হবে। এই সংঘাত নিরসনে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ বলে জোর দিয়েছে ব্রিকস জোট।

BRICS Summit 02
এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের সুব্যবস্থা করার ওপরও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যৌথ ঘোষণার এই সম্মতিকে ভারতের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী দল এবং ভারতীয় কূটনীতির জন্য এক বিশাল অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চলতি বছরের মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনব্যাপী বৈঠকে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতভেদের কারণে কোনো যৌথ ঘোষণা আনা সম্ভব হয়নি। তবে, এবার সেই মতভেদ কাটিয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ ইরান ও আমিরাতের সম্পর্কের জটিলতা থাকা সত্ত্বেও ব্রিকস শেরপারা টানা কয়েক দিন দিনরাত পরিশ্রম করে সর্বসম্মত শব্দের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন।

সব সদস্য রাষ্ট্রকে একই টেবিলে এনে একটি গ্রহণযোগ্য ভাষায় রাজি করানো বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও কৌশলী দূরদর্শিতাকেই প্রমাণ করে।

BRICS Summit 01
এই ঐতিহাসিক সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে উপস্থিত হয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ জোটের অন্য শীর্ষ নেতারা। সাত বছরের মধ্যে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এটিই প্রথম ভারত সফর। সম্মেলন চলার মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিট) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে শি জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদী রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ করেছেন। দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এটি দ্বিতীয় সাক্ষাৎ ছিল, যেখানে ভারত-ইরান সম্পর্কের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রে স্থান পায়। মোদী পেজেশকিয়ানের এই সফরকে অত্যন্ত 'বিশেষ' বলে আখ্যা দেন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি