এবার রাজঘাট অভিমুখে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পদযাত্রা!

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোট। বুধবারের তীব্র সংঘাত ও আটক নাটকের পর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানী দিল্লিতে আবারও এক বড় কৌশলগত লাঞ্চ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী কনট প্লেসের ‘মোয়েটস’ রেস্তোরাঁয় বিরোধী নেতারা একত্রিত হন। জানা গেছে, লাঞ্চের পরই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মহাত্মা গান্ধীর স্মারকস্থল রাজঘাট অভিমুখে বিশাল পদযাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধী জোটের।

Rahul Gandhi 01
এর আগের দিন জানপথের ‘সাগার রত্না’ রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ শেষ করে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন বিরোধী এমপিরা। এমনকি রাজপথে ধস্তাধস্তির পর রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে পুলিশ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবারের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে তিনটি আলাদা এফআইআর দায়ের করেছে।

যার মধ্যে সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশ সদস্যদের গায়ে হাত তোলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব মামলা ও আইনি হুমকি উপেক্ষা করেই আন্দোলনের ধার আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী শিবির।

কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ এমপি কোডিকুন্নিল সুরেশ জোর দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ থামবে না। খাড়গেজির লাঞ্চ বৈঠকেই পরবর্তী রণকৌশল চূড়ান্ত হবে। সূত্রের খবর, কনট প্লেসের আজকের এই বৈঠকে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও'ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্র, সিপিআইএমের জন ব্রিটাস, ইটি মোহাম্মদ বশির, সিপিআইয়ের পি সন্তোষ কুমারসহ জোটের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা।

Rahul & Priyanka 5
বৃহস্পতিবার এই লাঞ্চ সেশনের অন্যতম বড় চমক ছিল সমাজবাদী পার্টির যোগদান। বুধবারের লাঞ্চ ও আন্দোলন থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও, বৃহস্পতিবার আখিলেশ যাদবের নির্দেশে সমাজবাদী পার্টির দুই প্রভাবশালী এমপি, ঘোষীর সংসদ সদস্য রাজীব রাই এবং রামপুরের সংসদ সদস্য মহিবুল্লাহ নদভী সরাসরি কনট প্লেসের বৈঠকে যোগ দেন। রাজীব রাই বলেন, আমাদের পার্টি থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে, আমরা রাজপথের এই লড়াইয়ে একসঙ্গেই আছি।

বুধবারের তুলকালাম ও মামলার পর রাজঘাট অভিমুখে আজকের এই কর্মসূচিকে ঘিরে মধ্য দিল্লিতে বিপুল নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির রাজপথে বিরোধীদের এই লাগাতার অবস্থান ও মার্চ মোদি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর নতুন করে বড় রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করল।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস